
নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টি পড়ালেখা ও কাগজপত্রে ‘মডেল’ হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে মডেল নেই।
জানা গেছে, ১৯৩৯ সালে চৌদ্দগ্রাম পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী ফালগুনকরা রাজার দিঘির উত্তর পাশে এলাকার শিশুদের শিক্ষার জন্য মরহুম মাস্টার বোরহান উদ্দিন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ওই সময় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের জন্য মরহুম আবদুল আজিজ, মরহুম আবদুল করিম ও মরহুম আলী আহমেদ যৌথভাবে ৪১ শতক ভূমি দান করেন। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ফালগুনকরা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভালো ফলাফল করছে। পরবর্তীতে সরকার বিদ্যালয়টি সরকারি ও মডেল হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এটি পুরো উপজেলার মধ্যে একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মডেল বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শ্রেণিতে ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক ও আলাদা শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষ নেই। ফলে একটি শ্রেণিকক্ষে একই সময়ে প্রথম শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণির খ শাখা, আরেকটি শ্রেণিকক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণির ক শাখার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক দুই দিকে ফিরে পড়ালেখা করায় কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাঠদানে মনোযোগী হচ্ছে না। অভিভাবকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সাংবাদিকদের নিকট অবহিত করলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ফালগুনকরা দিঘির পাড়েই কোলাহলমুক্ত পরিবেশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের তিনটি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে নির্মিত বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের বিল্ডিংটির একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন শিক্ষকরা। অফিস কক্ষের পাশে প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের কক্ষটির পলেস্তরা খসে পড়ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়েছে সেই কক্ষটি। মেরামত না করায় শিশুরা খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেই কক্ষে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে প্রাক-প্রাথমিকের কার্যক্রম। তবে আশ্চার্যের বিষয় হলো- পুরো উপজেলার শিক্ষকদের রিসোর্স সেন্টারটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।
আবদুল্লাহ আল মামুন নামে একজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের পড়ালেখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। কিন্তু একই কক্ষে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালে কেউ শিখতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া কঠিন। আমি চাই, সরকার উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন করুক।
ফালগুনকরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন ও সহিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংকটের কারণে একই কক্ষে দু’টি শ্রেণির শিশুদের পাঠদান করাতে হয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের সমাধান করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছালেহা বেগম বলেন, পড়াশোনা ও ফলাফলে বিদ্যালয়টি মডেল হলেও আমরা শ্রেণিকক্ষ সংকটে ভুগছি। বাধ্য হয়ে একটি কক্ষে ২ শ্রেণির পাঠদান করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কষ্ট হচ্ছে। পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রæত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করে সংকট সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, পিইডিপি-৪ একটা প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ কাজগুলো হচ্ছিল। কিন্তু জুন মাসেই এ প্রোগ্রামের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপাতত কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম নেই। আগামী জুলাইয়ে পিইডিপি-৫ প্রোগ্রামের আওতায় উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। আমরা প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করবো। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবো।-সৌজন্যে কালবেলা
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com