
নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১১৫ কোটি টাকা নামাজ পড়তে পারবে ৩০,০০০ মুসল্লি
কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দান বক্স ও সিন্দুক থেকে পাওয়া ৩৫ বস্তা টাকা গণনা করে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তিন মাস ২৭ দিন পর মসজিদের ১৩টি দান সিন্ধুক খুলে মিলেছে ৩৫ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
গত শনিবার সকাল সোয়া ৭ টায় সিন্ধুক খুলে মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে নিয়ে সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে গণনার কাজ। দুপুর ১টা পর্যন্ত গণনা করা হয়েছে ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত গণনা করে মোট ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য এ টাকাগুলো রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো হয়েছে। এরপরও চলেছি আরো টাকা গণনার কাজ। এতে প্রায় ৫০০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছিলেন।
এ সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এর আগে, গত (৩০শে আগস্ট) কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিলো। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে। সে সময় সাড়ে ১১ ঘণ্টায় ৫০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন।
এর আগে, গত (১২ই এপ্রিল) কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১১টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। প্রায় ৯ ঘণ্টায় ৪০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন। সঙ্গে ছিলো স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি রুপার অলংকারও।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই মসজিদের দানবাক্সে একসঙ্গে এত টাকা পাওয়াটা তখন ছিলো নতুন রেকর্ড। এবার সে রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মসজিদটিতে নিয়মিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করে থাকেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অসংখ্য মানুষ।
এর আগে, গত বছরের ৩০শে নভেম্বর দান সিন্ধুক খোলা হয়েছিল। তখন ২৯ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, আর গণনা শেষে তখন রেকর্ড ভেঙে এক অভাবনীয় অঙ্ক ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টায় ৪০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন। সঙ্গে ছিল স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি রুপার অলংকারও পাওয়া যায়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল সোয়া ৭ টার দিকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের তেরোটি দান দানবাক্স খোলা হয়েছে। দানবাক্সগুলো খুলে ৩২ টি বস্তায় ভরে টাকাগুলো মসজিদের দোতলায় নেয়া হয়েছে গণনার জন্য। দীর্ঘক্ষণ চলেছিলো টাকা গণনার কাজ।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি আসলাম মোল্লা জানান, আপনারা অবগত আছেন যে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অন্যতম একটি জায়গা। সকল ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। তাদের দানের অর্থ দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স করা হবে- যেখানে একসাথে ৩০ হাজার মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজেও ব্যয় করা হয়ে থাকে। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।
ওদিকে, উক্ত পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু করা হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
প্রকাশ থাকে যে, উল্লিখিত পাগলা মসজিদ বা পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ- যা কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭৯ সালের ১০ই মে থেকে ওয়াকফ্ স্টেট মসজিদটি পরিচালনা করে আসছেন। Courtesy: dhakapost/ bdtoday.
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com