
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাতভর অভিযান চালিয়ে সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে আরপিএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।
এর আগে শনিবার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন—রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ জানায়, বাড়িটি কয়েক দিন ধরে তালাবদ্ধ দেখে স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং নিহত পরিবারের সঙ্গেও তাদের পরিচয় ছিল। সিদ্ধার্থ নগরীর একটি স্বর্ণের দোকানে এবং মুগ্ধ একটি মাছের দোকানে কাজ করতেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরপিএমপি কমিশনার জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দুজন স্বীকার করেছেন, চার দিন আগে রাতে নিহতদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একে একে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিক্ষকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে সেখানেই তার গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
এরপর মায়ের আর্তনাদ শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছর বয়সী প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরপিএমপি কমিশনার আরও বলেন, পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার পর অভিযুক্ত দুই যুবক ওই বাড়িতেই কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে তারা গোসল করেন এবং ঘরে থাকা খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ইয়াবা সেবন করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে তারা ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রাখে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। একটি স্বর্ণের চুড়ি আসল নাকি নকল, তা পরীক্ষা করতে সেটি ঘরের মধ্যেই পুড়িয়ে দেখা হয়েছিল। এছাড়া আঙুলের ছাপ মুছে ফেলতে বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
এ ঘটনায় তদন্তের আরও অগ্রগতি হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন করে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সাংবাদিকদের জানান আরপিএমপি কমিশনার।
নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com