
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম বছরে মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে, পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা সংযুক্ত করা হবে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, পুরো প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন তাদের প্রতিবেদন গত জানুয়ারিতে সরকারের কাছে জমা দেয়। সেই সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা তিন ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা দিয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেড কাঠামো আগের মতোই ২০টি রাখা হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া মূল বেতন বাড়লে অন্যান্য ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে। বৈশাখী ভাতা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে এবং যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও পরিসর বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীরাও এই প্রস্তাব থেকে বড় সুবিধা পেতে পারেন। নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে, আর উচ্চ পেনশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও যুক্ত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এক ধাপে বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com