
ষ্টাফ রিপোর্টার\ নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ডলাইন রেলপথটি হলো ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত ডুয়েল গেজ রেলপথ। এটি বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত হবে। এই রেলপথ নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার মধ্য দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে সরাসরি সংযুক্ত করবে।
ইতিহাস:পটভূমিঃ ঢাকা স্টেট রেলওয়ে ১৮৮৪-১৮৮৫ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১৪৪ কিলোমিটার (৮৯ মাইল) দীর্ঘ মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ করে। এই রেলপথটি মূলত: পাট সংগ্রহের জন্য তৈরি করে কলকাতায় প্রেরণের জন্য চালু করা হয়েছিলো। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে রেল সংযোগের জন্য আসামের চা চাষীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে ১৮৯১ সালে বঙ্গের পূর্ব দিকে একটি রেলপথ নির্মাণ শুরু করে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার মধ্যে একটি ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ (৯৩ মাইল) বিশিষ্ট রেলপথ ১৮৯৫ সালে রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মেঘনার পূর্ব তীরে চলমান এই রেলপথের সাথে মেঘনার পশ্চিম তীরের রেল ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করার প্রয়াসে টঙ্গী-আখাউড়া রেলপথ ১৯১০ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে তৈরি হয়।
ঢাকা থেকে রেলগাড়িতে করে চট্টগ্রাম যেতে হলে নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট, টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়া ও আখাউড়া-লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথ দিয়ে যেতে হয়, তাই রেলপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৩২৪ কিমি হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যমান যাত্রাপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই এই পথের দূরত্ব কমাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দুই বছর আগে একটি কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে লাকসাম পর্যন্ত পরিকল্পিত কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণ করা হলে রেলপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২১৪ কিলোমিটার কমে যাবে বলে জানা যায়। প্রস্তাবিত কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণের জন্য পাকিস্তান সরকারের বাজেট ছিলো ২৬ কোটি। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়াসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
উন্নয়নঃ অত:পর, দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পরে কর্ডলাইন রেলপথের একটি ট্রাফিক জরিপ প্রস্তুত করা হয়েছিলো। সেই জরিপে কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণের জন্য দু’টি যাত্রাপথ প্রস্তাব করা হয়। প্রথম প্রস্তাবিত যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য ছিল ১১০ কিলোমিটার ও দ্বিতীয় রুটের দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকার এর নির্মাণের জন্য বাজেট করে ২৭.৬৩৮ কোটি টাকা। সরকার ১৯৮০ এর দশকে কর্ডলাইন রেলপথের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে, কিন্তু নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। তারপরে শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রিসভার সময় গঠিত রেলওয়ে পুনর্গঠন সংস্কার প্রণয়ন কমিটি ১৯৯৮-১৯৯৯ আর্থিক বছরে কর্ডলাইন রেলপথের জন্য ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছিলো। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার সময় সরকার এসএম এএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডকে এই কর্ডলাইন রেলপথের জন্য আরেকটি জরিপ করার জন্য নিযুক্ত করে। সেই সমীক্ষায় এর বাজেট ছিলো ২৫,৮০০ কোটি টাকা।
অতপর, ২০১৫ সালে দেশের তৎকালীন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব পূর্বে নির্ধারিত কর্ডলাইন রেলপথের যাত্রাপথের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা দেন, যা পরের বছর শুরু করার জন্য নির্ধারিত হলেও শুরু হয়নি। ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভা কর্ডলাইন রেলপথের প্রস্তাবিত যাত্রাপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে, যা পরিবহন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলো। কিন্তু অত্যধিক ব্যয় বিবেচনা করে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয় ও কর্ডলাইন রেলপথের উপর গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন শুরু করা হয়। ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ফের কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণের জন্য একটি নতুন পরিকল্পনার প্রতিশ্রæতি দেন। যা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। ১১ই জানুয়ারি ২০২৩-এ সরকারি ক্রয়াদেশ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্ডলাইন রেলপথের নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন ও বিশদ নকশা করার জন্য রেল মন্ত্রণালয়কে অনুমতি দেয়। নভেম্বর ২০২৩ সালে সমীক্ষার জন্য নিযুক্ত কনসোর্টিয়াম সরকারের নিকট সমীক্ষার সারসংক্ষেপ পেশ করে। তারা এতে রেলপথের জন্য চারটি সম্ভাব্য যাত্রাপথ প্রস্তাব করে। তবে সরকার সারসংক্ষেপটি বাতিল করে মার্চ ২০২৪ সালে কর্ড রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় কর্ডলাইন রেলপথের জন্য আবার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করার নির্দেশ দেয়।
অবশেষে, বর্তমান ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্ডলাইন রেলপথ বাস্তবায়নের ঘোষণা করেন এবং জানান যে- কর্ডলাইন রেলপথের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্নের পর, এর যাত্রাপথ ঢাকার শ্যামপুর বড়ইতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কুমিল্লার কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বাছাই করা হয়েছে। পড়ঁৎঃবংু: ভধপবনড়ড়শ/ সমতট/ নোয়াখালী পেজ/ তথ্যসমগ্র: উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com