
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান নেওয়া তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দেশটির ভেতরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আফগান তালেবান প্রশাসন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। উভয় দেশই নিজেদের অবস্থানকে বৈধ দাবি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান এখন আগের তুলনায় আরও সংগঠিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা তাদের নতুন ধরনের সামরিক সুবিধা এনে দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও সীমিত পরিসরে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, যাতে সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ না নেয়।
দুই দেশের বিরোধের আরেকটি বড় কারণ হলো ডুরান্ড লাইন সীমান্ত। আফগানিস্তান এখনো এই সীমারেখাকে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে তালেবান সরকারের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের কৌশলগত উদ্বেগও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সামরিক পদক্ষেপ দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সীমান্ত বিরোধ, সন্ত্রাসবাদ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও রাজনৈতিক সংলাপই হতে পারে উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com