
ষ্টাফ রিপোর্টার\ দুই দিনের সরকারি সফরে গত রোববার রাতে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশটিতে পৌঁছার পর বিমানবন্দরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। গত ফেব্রæয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় (২২শে জুন ২০২৬) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই অভ্যর্থনা দেয়া হয়।
প্রথমেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
এরপর লালগালিচায় তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় সাংগ্রিলা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা হন। পরে সকাল ৯টায় পুত্রজায়ায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছান।
সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়। সব শেষে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সেখান থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারেক রহমান। চীনে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
রোববার রাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রবাসীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আজকে আমাদের কী দাবি আছে সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি. আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি? হোয়াট উই ক্যান ডু ফর কান্ট্রি? দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি কথা রাখব, আসুন আজকে থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কী করতে পারি দেশের জন্য। এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা, আপনাদের কাছে এই আশা।’
শাংগ্রি লা হোটেলে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অবস্থা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন, দেশ থেকে কেউ একজন, একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে আজকে, দেশটাকে একদম ধ্বংস করে দিয়েছে। ঠিক আছে হয়েছে। কী করার। কিছু করার ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি, বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কী করতে পারি। এটিতে আমরা থাকি।’
দেশ গঠনে নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো- বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদের বলেছি। আপনারা যদি মনে করেন যে এভাবে আমরা এগোতে পারব দেশকে নিয়ে, যাঁরা বিশ্বাস করবেন কথাগুলো, দোয়া করবেন যাতে এগুলোর বাস্তবায়ন আমরা করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী গল্পের মতো নিজের পরিকল্পনা বলেন একে একে। উপস্থিত প্রবাসীরা মনোযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন এবং মাঝেমধ্যে করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-ভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে একটি অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এখানে একটি বিরাট ‘তবে’ আছে। ‘তবে’ হচ্ছে যে আমাদের এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদের এর জন্য কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে যে আমাদের এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”
মালয়েশিয়া ও চীন মিলে ৬ দিনের সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর এই চীন সফরকে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘দুই দিনের এই সফরে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com