
নাজমুল এহসান\ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নাম। তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী নন; বরং দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনার এক দৃঢ় প্রতীক। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, রাজনৈতিক সংকট ও ব্যক্তিগত ত্যাগের মধ্য দিয়ে তার যে আদর্শিক অবস্থান গড়ে উঠেছে, তা আজও বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক ও দিকনির্দেশনামূলক। বলা যায়, খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করলে বাংলাদেশ কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।
খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার। তিনি বিশ্বাস করতেন রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ আর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা জনগণের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। তার শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখার চেষ্টা, বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার উদ্যোগ এ কথাই প্রমাণ করে। আজ যখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন তার আদর্শ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে তার অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। এ জাতীয়তাবাদী চেতনা বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় আদর্শিক দিক ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার। তিনি দরিদ্র, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের কথা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চেয়েছিলেন। তার সময়কার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রেখেছে। উন্নয়ন যে শুধু অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য এ দর্শন তার রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নেও খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। একজন নারী হিসেবে তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং বাংলাদেশের নারীসমাজের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। তিনি দেখিয়েছেন, নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা লিঙ্গনির্ভর নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মের নারীদের জন্য তার রাজনৈতিক জীবন এক শক্তিশালী প্রেরণার উৎস।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খালেদা জিয়ার আদর্শ ছিল সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের পক্ষে। ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে নয়; বরং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখার মানসিকতা তিনি ধারণ করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যে বয়ান সৃষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছিল লুটপাটের মাফিয়াতন্ত্র। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা কথা বলত, তাদের চিহ্নিত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী হিসেবে। এভাবেই রাজনীতিকে ক্রমেই বিভাজন ও সংঘাতমুখী করা হয়, এমন একটি পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের সামনে এখন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এ সংকট উত্তরণে প্রয়োজন একটি নৈতিক, গণতান্ত্রিক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দর্শন। খালেদা জিয়ার আদর্শ সেই দিশা দেখাতে পারে। ইতিহাস প্রমাণ করে, যে জাতি তার মূল্যবোধ ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, সে জাতি পথ হারায়। আর যে জাতি সঠিক আদর্শ আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলে, তার ভবিষ্যৎ হয় আলোকিত। খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করলেই বাংলাদেশ সেই আলোকিত পথেই এগোবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com