
\ অধ্যাপক আবু তাহের \
আমি ১৯৯৯ সালে মাষ্টার্স পরীক্ষা শেষ করে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়িতে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালিন লাকসামবার্তা’র কিছু কপি পড়ার সুযোগ হয়। তখন মনস্থির করলাম চাকুরীতে প্রবেশ করা পর্যন্ত লাকসামবার্তার সাথে থেকে কিছু সংবাদ বা লেখালেখি করলে কেমন হয়। যেই কথা সেই কাজ।
আমি একদিন লাকসামবার্তা পত্রিকা অফিসে (পুরাতন দৈনিক বাজার, লাকসাম) গিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক জনাব শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী সম্পাদক জনাব তোফায়েল আহমেদ ভাইয়ের সাথে দেখা করি। পরিচয়ের পরে আমার মনের কথা ব্যক্ত করি। আমার কথা শুনে সম্পাদক সাহেব আমাকে এলাকার জন দুর্ভোগ, জানযট, রাস্তা-ঘাট সম্পর্কে সরজমিনে কিছু সংবাদ লিখে জমা দিতে বললেন।
আমার মনে পড়ে আমি কুমিল্লা থেকে লাকসাম সড়কের বিভিন্ন স্থানের “জানযটের কারণ ও প্রতিকার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন জমা দেই। লেখাটি সম্পাদক সাহেবের পছন্দ হওয়ায় তিনি বাইনেমে লাকসামবার্তায় ছাপালেন। তখন থেকে লাকসামবার্তার সাথে আমার পথ চলা শুরু। আমি লাকসামর্বাতার সংবাদদাতা হিসাবে কার্ডপ্রাপ্ত হই। সে থেকে আমার এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার-মেরামত, স্কুল, মাদ্রাসার সমস্যা, বিদ্যুতের অপ্রতুলতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধন অনেক প্রতিবেদন এ লাকসামর্বাতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাই লাকসামর্বাতার নিকট চির ঋণী।
এ পত্রিকা অফিসে নিয়মিত আসা-যাওয়ায় লাকসামের নবীন-প্রবীণ অনেক সাংবাদিকের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। প্রয়াত সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রাহী (মিনু), আবু জাফর রোজদান, করুন কুমার দেবরায়, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল হাই মঞ্জু। এছাড়াও দৈনিক কালেরকন্ঠের লাকসাম প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান দুলাল, মানবজমিনের কামরুল ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাকের আব্দুল কুদ্দুস, দৈনিক দিনকালের মশিউর রহমান সেলিম, নয়া দিগন্তের মিজানুর রশিদ। স্থানীয় পত্রিকার শাহ আলম মজুমদার, আবুল কালাম, কামাল হোসেন, এমএসআই জসিম, আব্দুর রহিম, তাহেরুল ইসলাম ও প্রদীপ মজুমদার প্রমুখ।
লাকসামর্বাতা পত্রিকার সম্পাদক শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি এই পত্রিকার সম্পাদক ছাড়াও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার লাকসাম উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। সংবাদ তৈরিতে তিনি ছিলেন স্বিদ্ধহস্ত। সামাজিক অসংগতি, অনৈতিক কাজ, দূর্ঘটনা জনিত ইত্যাদি সংবাদগুলো তিনি ডকোমেন্ট ছাড়া ছাপাতেন না।
তিনি মাঝে মাঝে রিপোর্টারদের নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম করতেন। যাতে সাংবাদিকদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। এ জন্য আমি বলতাম লাকসামে সাংবাদিক তৈরির কারিগর জনাব শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া। উনি কমশিক্ষিত লোকদের তার পত্রিকার কার্ড দিতেন না। আমার প্রত্যাশা এই লাকসাম একদিন জেলায় রূপান্তর হবেই এবং সাপ্তাহিক লাকসামবার্তা পত্রিকাও দৈনিক লাকসামবার্তা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে ইনশাল্লাহ, আমি দৃঢ় প্রত্যাশা করি।
আমি ২০০০ সালে লালমাই ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করি। আজও লালমাই সরকারি কলেজে কর্মরত আছি। কর্মব্যস্থতায় ও পারিবারিক সমস্যার কারণে আগের মতো পত্রিকা অফিসে যাওয়া হয় না। তবুও মাঝে মাঝে লাকসাম গেলে লাকসামবার্তার কপি সংগ্রহ করি।
এই পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধ্যাবদি তার নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি উৎসাহিত হয়ে একপেষে সংবাদ পরিবেশন করেনি। বাস্তব ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। চলতি ভাষার রীতি ও বিশুদ্ধ বানান লাকসামবার্তার বৈশিষ্ট্য।
এই পত্রিকার সম্পাদক ও স যোগী সম্পাদকের দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি। লাকসামবার্তা পত্রিকা ৩০তম বর্ষে পদার্পন করায় পত্রিকাটির সার্বিক কল্যাণ কামনা করি। লাকসামবার্তা পত্রিকার প্রতি আমার হৃদয়ের টান থাকবে অটুট ও অ¤øান। আল্লাহ সকলের সহায়তা করুন, আমিন।
লেখকঃ অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস, লালমাই ডিগ্রি কলেজ, কুমিল্লা
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com