
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা শুরু হয়, যেখানে ছয়টি অধ্যায়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, তিন আসামির বিরুদ্ধেই আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুইটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর রাজসাক্ষী হিসেবে সহযোগিতা করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিচারকাজ শুরু হয় এবং সেদিনই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম আসে। প্রসিকিউশন গত ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—
১. ১৪ জুলাই গণভবনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া
২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ
৩. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ
গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন এবং বিচার শুরুর আদেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণদমনের নামে মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করা হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং পলাতক হিসেবে বিবেচিত। ফলে তাঁরা আপিলের সুযোগ হারাবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা গ্রেফতার হতে হবে।
এই মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ অক্টোবর। এরপর ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়।
গত ১৩ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে এ বছরের শুরুতে শেখ হাসিনার একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ পায়—যেখানে তাঁকে “২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি” বলতে শোনা যায়। ঘটনাটিকে বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য করে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার মামলা করে। ওই মামলায় গত ২ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com