
ষ্টাফ রিপোর্টার\ সংরক্ষিত নারী আসনে স্থান পেতে কুমিল্লায় ৮ নারী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই কৌশলে জেলার এমপি-মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ ছুটছেন রাজধানীতে দলের সিনিয়র নেতাদের দ্বারে। অনেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, পারিবারিক পরিচিতি, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে জীবন বৃত্তান্ত তৈরি করে বিএনপি’র হাইকমান্ডের কাছে পাঠিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি’র প্রার্থী জয়লাভ করে। তাদের মধ্যে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, জাকারিয়া তাহের সুমন ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কুমিল্লা থেকে এমপি হন শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত এবং আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা প্রয়াত আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা। দ্বাদশ সংসদে আরমা দত্ত আবারো সংসদ সদস্য হন। এবার কুমিল্লায় বিএনপি থেকে ৬ নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শামীমা আক্তার রুবী। তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি ফ্রান্স মহিলা দলের সহ-সভাপতি ছিলেন। মুরাদনগর বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রুবীর লেখা ‘মুক্তি চাই’ গান সারা দেশে তারুণ্যের সমাবেশে প্রশংসিত হয়। রুবী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তার স্বামী মোহাম্মদ কামরুল হাছান একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী। রুবী বলেন, দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নারীদের সঙ্গে নিয়ে মিছিলের সামনে থেকে লড়াই করেছেন তিনি। প্রবাসে অবস্থানকালে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এবার দল নারীদের পক্ষে সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দেবে বলে আশা তার।
‘গুম’ হওয়া লাকসাম পৌরসভা বিএনপি’র তৎকালীন সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিণী শাহনাজ আক্তার রানু সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। শাহনাজ ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর লাকসাম পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন শাহনাজ। গুমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন তিনি। শাহনাজ আক্তার বলেন, দলের জন্য তার পরিবারের অনেক ত্যাগ রয়েছে। তার স্বামী গুম হয়েছেন। ১৩ বছর ধরে মাঠে কাজ করেছেন তিনি। স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে দল তাকে এমপি হতে সুযোগ করে দেবে বলে আশা করছেন।
এডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা কেন্দ্রীয় মহিলা দল ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার প্রয়াত স্বামী আলাউদ্দিন আহমেদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহŸায়ক তিনি। হেনা বলেন, ২০০৮ সালে দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় ৮টি ও কুমিল্লায় একটি মিথ্যা মামলা হয়। মামলা হামলার ভয়ে মাসের পর মাস কুমিল্লা ও ঢাকার বাসায় ঘুমাতে পারেননি। স্বামীর প্রিয় সংগঠনকে আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা তার।
কুমিলা দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাকিনা বেগম। এছাড়া তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহŸায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে বিএনপি’র দক্ষিণ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার স্বামী অধ্যাপক ডা. আবদুল লতিফ। সাকিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। দলের চেয়ারম্যান বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশা করছেন তিনি।
দিলারা শিরিন মেঘনা উপজেলা পরিষদের ৩ বারের ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। মেঘনা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহŸায়ক। এর আগে তিনি মেঘনা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। দিলারা বলেন, এক সময় অবহেলিত উপজেলা ছিল মেঘনা। সেখানে নারীদের নিয়ে দল সংগঠিত করা কঠিন কাজ ছিল। প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে মহিলা দল দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। দল মূল্যায়ন করবে বলে আশা তার। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপি’র প্রয়াত সংসদ সদস্য কর্নেল অব. এম আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা এবারের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে দলের প্রার্থী আবুল কালামের পক্ষে কাজ করেন তিনি। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। দোলা বলেন, দলের নির্দেশে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন তিনি। দলের কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন দল ক্ষমতায় গেলে তাকে মূল্যায়ন করবেন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া বেগম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ডালিয়া রহমান। ডালিয়ার বাড়ি বরুড়া পৌরসভার অর্জুনতলা এলাকায়। সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাÍক মিয়া জানান, নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে দলের অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। তারা দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তবে তাদের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। এক্ষেত্রে যোগ্যরাই সুযোগ পাবেন বলে আমি আশাবাদী।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com