প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৪, ২০২৬, ২:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:৫০ পি.এম
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৫ মিনিট পর পর নিউইয়র্কের বিশাল ফেরি ভ্রমণ

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৫ মিনিট পর পর নিউইয়র্কের বিশাল ফেরি ভ্রমণ নিউইয়র্কে প্রতিদিনের যাতায়াতে খরচের পরিমাণ কম নয় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও ব্যয়বহুল এই শহরে। বাস, ট্রেন কিংবা অন্যান্য গণপরিবহনে চলাচলের জন্য গুনতে হয় ডলার। তবে এই শহরেই রয়েছে এমন একটি জনপ্রিয় নৌযান, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নদী পারাপার করেন। যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিচিত। নিউইয়র্ক শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হাডসন নদী। এই নদী পেরিয়ে স্টাটেন আইল্যান্ডে যেতে ব্যবহার করা হয় স্টাটেন আইল্যান্ড ফেরি। নদী পার হতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই পুরো যাত্রায় যাত্রীদের কোনো ভাড়া পরিশোধ করতে হয় না।
ব্যয়বহুল নগরজীবনের মধ্যে এমন বিনামূল্যের সেবা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক—উভয়ের কাছেই বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া-আসার জন্য এই ফেরির ওপর নির্ভরশীল। আবার অনেকেই শুধুমাত্র নদীর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে কিংবা অবসর কাটাতে এই নৌভ্রমণ বেছে নেন। বিশাল আকৃতির ফেরিগুলো একসঙ্গে কয়েকশ যাত্রী বহনে সক্ষম। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ভেতরে রয়েছে আরামদায়ক বেঞ্চ, আর বাইরের খোলা অংশে বসার জন্য রাখা হয়েছে চেয়ার, যেখান থেকে নদী ও শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। হাডসন নদী প্রশস্ত ও গভীর হওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট সংরক্ষণ করা থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে দ্রুত ব্যবহার করা যায়, সে জন্য নির্দিষ্ট স্থানে এগুলো রাখা হয়েছে। ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে স্টাটেন আইল্যান্ড ফেরি। প্রায় প্রতিটি ট্রিপেই যাত্রীদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হলেও বোর্ডিং প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। সাধারণত দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই পুরো লাইন শেষ হয়ে যায়। কোনো কারণে একটি ফেরি মিস হলে পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১৫ মিনিট। এই ফেরি ভ্রমণের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো, যাত্রাপথ থেকেই দূর থেকে দেখা যায় বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা স্ট্যাচু অব লিবার্টি। যদিও স্টাটেন আইল্যান্ড ফেরি সরাসরি এই ভাস্কর্যের কাছে যায় না, তবুও নদীর মাঝ থেকে এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
যারা স্ট্যাচু অব লিবার্টির একেবারে কাছাকাছি যেতে চান, তাদের জন্য রয়েছে আলাদা ফেরি পরিষেবা। তবে সেটি বিনামূল্যের নয়। ওই ফেরিতে যাতায়াতের জন্য আসা-যাওয়ায় প্রায় পাঁচ ডলার ব্যয় করতে হয়। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত মহানগরে যেখানে প্রতিটি যাতায়াতে খরচের হিসাব থাকে, সেখানে স্টাটেন আইল্যান্ড ফেরি এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এটি শুধু স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ করেনি, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্যও হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী ও স্মরণীয় এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। ঢাকা টুডে / আরজে/ Courtesy: dhakatoday
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com
© 2023 Weekly Laksambarta. All rights reserved.