মোঃ জামাল হোসেন\ মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ১০ই মহররম অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর শাহাদাত ছাড়াও আল্লাহ’র পক্ষ থেকে অনেক ঘটনা ঘটে। প্রাক ইসলামী যুগেও আরবদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়সহ আহলে কিতাবীরা ঘটা করে দিনটি পালন করত। সুতরাং ধর্মীয় গুরুত্বের বিচারে মুসলমান অমুসলমান সবাই দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি করে। তাই আশুরার দিনটি বিশেষ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমান ২০২৬ সালের ১০ই মহররম (পবিত্র আশুরা) ২৬শে জুন শুক্রবার পালিত হবে।
ইসলামি ফাউন্ডেশন বা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হিজরী ১৪৪৮ সনের মহররম মাস শুরু হয় এবং চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই এই দিনটি নির্ধারিত হয়ে থাকে।
শিয়া মুসলমানরা ১০ই মহররম কারবালার ঘটনার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আশুরার দিন স্মরণে রোজা রাখা এবং নফল ইবাদত করা হয়। দান-খয়রাত করা এবং গরীব এতিম মিসকীনদের ভোজন করানো হয়ে থাকে। ইমাম হোসাইন (রাঃ)সহ কারবালায় শাহাদাত বরণকারীদের জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। আল্লাহুতায়ালা এ দিনে আরো অসংখ্য ঘটনা ঘটান।
১. ৬ দিনে আল্লাহুপাক বিশ্বব্রহ্মান্ড ও এর মধ্যকার সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করে আরশে আজীমে সমাসীন হয়েছেন। এ দিনের শুক্রবারে ই¯্রাফীল (আঃ) সিঙ্গা ফুৎকারে কেয়ামত বা মহাপ্রলয় ঘটাবেন। ২.আল্লাহ তায়ালা এ দিনে জমিনে প্রথম বৃষ্টিবর্ষণ করেন। ৩. ১০ই মহররম এ দিনে আল্লাহপাক বাবা আদম (আঃ) ও মা হাওয়াকে (আঃ) সৃষ্টি করেন। এ দিনে তাঁদের বেহেশতে প্রবেশ করান এবং গন্ধম ফল খাওয়ার অপরাধে দুনিয়াতে নিক্ষেপ করেন। ৪. এ দিনে আদম (আঃ) এবং হাওয়া (আঃ) এর দো’য়া কবুল হয়। ফলে বর্তমান শ্রীলংকা থেকে আদম (আঃ) এবং জেদ্দা হতে হাওয়া (আঃ) আরাফাতের ময়দানে পুনরায় একত্রিতহন। ৫. পৃথিবীর প্রথম হত্যাকান্ড হাবিল কাবিলের এ দিনে সংঘটিত হয়। ৬. নুহ (আঃ) এর মহাপ্লাবনের পর জুদী পাহাড় থেকে এ দিনে সাথীদের নিয়ে তিনি ভূমিতে অবতরণ করেন। ৭. ইউনুস (আঃ) এ দিনে মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসেন। ৮. ইদ্রিসকে (আঃ) আশুরার দিনে দুনিয়া থেকে জান্নাতে উঠিয়ে নেন। ৯. ১৮ বছর কুষ্টু রোগ ভোগের পর আইয়ুব (আঃ) এদিনে আরোগ্য লাভ করেন। ১০. দাউদ (আঃ) এর দো’য়া ১০ই মহররম আল্লাহ কবুল করেন। ১১. সোলায়মান (আঃ) এ দিনে তাঁর বাদশাহী পুনরায় লাভ করেন। ১২. তাওরাত কিতাব মুসা (আঃ) এর ওপর নাজিল হয়। ১৩. তুর পাহাড়ে মুসা (আঃ) আল্লাহ’র সাথে কথোপকথন করেন। ১৪.ইয়াকুব (আঃ) তদীয় পুত্র ইউসুফ (আঃ) এর সাথে পুর্নমিলিত হন। ১৫. বনি ইসরাইলের ১২টি গোত্রসহ মুসা (আঃ) নীলনদ পার হন এবং বাদশাহ ফেরাউনের বাহিনীকে আল্লাহ পানিতে ডুবিয়ে মারেন। ১৬. ১০ই মহররম ইবরাহীম (আঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। এ দিনে তিনি জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নি কুন্ডুলি থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসেন। ১৭. ইসা (আঃ) এ দিনে জন্ম গ্রহন করেন। আল্লাহ তাঁেক এ দিনে আসমানে উঠিনে নেন। ১৮. এ দিনে আল্লাহতায়ালা সকল পয়গম্বরকে স্ব স্ব শত্রæর হাত থেকে রক্ষা করেন। ১৯. এদিনে রাসুল (সঃ) সর্ব প্রথম ওহী প্রাপ্ত হন। ২০. মোহাম্মদ (সঃ) এ দিনে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। ২১. এ দিনে খায়বার মাদায়েন এবং কাদেসিয়ার যুদ্ধে মুসলমানরা জয় লাভ করেন। ২২. সর্বশেষে ইমাম হোসাইন (রাঃ) তাঁর ৭৩ জন সঙ্গীসহ স্বৈরশাসক ইয়াজিদ বাহিনী কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে ১০ই মহররম দিনটি বিশেষ গুরুত্বের দাবীদার। আল্লাহতায়ালা এ দিনে তাঁর পয়গম্বরদের বিশেষ মদদ প্রদান করেন। শত্রæর উপর জয়লাভ দোয়া কবুল এবং বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেন। এ দিনে বিশ্বব্রম্মান্ড সৃষ্টির পর আল্লাহ আরশে আজীমে উপবিষ্ট হন। সর্বশেষে ইসলামের ঐতিহ্য সমুজ্জ্বল চিরভাস্বর এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে রাসুল (সঃ) এর দৌহিত্রদ্বয় আল্লাহর পথে কোরবানী হন। এ জন্য ১০ই মহররম বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যের দাবীদার।
লেখকঃ শিক্ষক, ফুলগাঁও ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা, লাকসাম, কুমিল্লা
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com