লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথ উন্নয়নে অবশেষে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ

বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার রেল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নানা উদ্যোগের অংশ হিসেবে লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ সংস্কারে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের কাজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।


কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নোয়াখালী ও চৌমুহনী অঞ্চলের স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্ম ছোট হওয়ায় যাত্রীদের ওঠা-নামায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের নতুন অংশ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে একসঙ্গে ১৬টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনের যাত্রীরা নিরাপদে ওঠা-নামা করতে পারবেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মের মেঝে পাকা করা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ব্যবস্থার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা এবং স্টেশন ভবন ও শেডের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।


সিনিয়র সচিব বলেন, নোয়াখালীবাসীর যাতায়াত সুবিধার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং নতুন বরাদ্দ পাওয়া আন্তঃনগর সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু করা হবে।

প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, লাকসাম থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজের দরপত্র ৫ নভেম্বর আহ্বান করা হয়েছে। এর আওতায় ক্ষয়প্রাপ্ত রেলপাত ও স্টিল স্লিপার পরিবর্তন, নতুন পাথর (ব্যালাস্ট) স্থাপন, ফিটিংস আধুনিকায়ন, ব্যাংক প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোর মানোন্নয়ন করা হবে।

ঢাকা-নোয়াখালী রুটে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, মিটারগেজ ইঞ্জিনের (লোকোমোটিভ) সংকট থাকায় আপাতত নতুন ট্রেন চালু করা যাচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম পড়বে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব ইঞ্জিন ও নতুন কোচ রেলবহরে যুক্ত হবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে আরো জানান যে, ইঞ্জিন ও কোচ পাওয়া গেলে বর্তমানে চলাচলরত উপকূল এক্সপ্রেসের বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। Ref: bangla.thedailystar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *