
দেশজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। রান্নার চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে কাঠ ও মাটির চুলায় রান্না করছে। অন্যদিকে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাইরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলএনজি আমদানির অন্যতম ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি দুর্ঘটনার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছে। তবে পুরোপুরি সচল হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে বিকল্পভাবে টার্মিনালের অক্ষত অংশ চালুর চেষ্টা চলছে। এটি সফল হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে, যা সংকট কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্যাসের স্বল্পচাপে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের পর দিন চুলায় গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। অনেক পরিবার গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন, যা আবার বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়ে লোডশেডিংকে আরও তীব্র করছে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালানো হলেও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সরকার এলএনজির বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদেশি উৎস থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ব্যয়বহুল এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল সচল হওয়াই এখন সংকট নিরসনের প্রধান উপায়।
সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও সরকার জানিয়েছে, চলমান সংকটের মধ্যে নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আগে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস মিলছে না। ভোগান্তির এই সময়ে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড় বা বিল সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সংকট ও লোডশেডিংয়ের এই দ্বৈত চাপ কবে কাটবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনো নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের আশা, টার্মিনাল দ্রুত চালু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও শিল্পখাতকে দুর্ভোগ সহ্য করেই চলতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com