সাইফুল ইসলাম\ কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের চরাঞ্চল, ডাকাতিয়া নদী এবং ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ বেষ্টিত চরজামুরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন এবং শিক্ষক সংকটে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষ সংকটে পরিত্যাক্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নিতে
হচ্ছে। শিক্ষক সংকটে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বেসকারিভাবে ২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াশবøকের নির্মাণ কাজ গত ৬ বছরেও শেষ না হওয়ায় টয়লেট সারতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশ্ববর্তী মসজিদের টয়লেটে যেতে হয়।
সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল, ডাকাতিয়া নদী এবং ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথ বেষ্টিত চরজামুরাইল গ্রামে প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। ভবন সংকটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক পরিত্যাক্ত ঘোষিত এবং পানিতে নিমজ্জিত ভবনের তিনটি কক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করছেন। ভবনটি ছাদে পাটল সৃষ্টিসহ পিলারগুলোতে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় যে কোন মূহুর্তে ভবনটি ধ্বসে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জীবনহানির আশংকা রয়েছে। অন্য একটি ভবনের মাত্র দু’টি কক্ষের মধ্যে একটিতে শিশু শ্রেণীর কার্যক্রম এবং অন্য একটি কক্ষ শিক্ষকদের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে সীমানা দেয়াল নেই। ভারী বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে এবং মাঠে পানি উঠে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহতসহ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। জলাঞ্চল বেষ্টিত বিদ্যালয়টির পাশ্ববর্তী গ্রাম হরিণ দ্বীপের শিক্ষার্থীদের বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ একজন নিয়মিত সহকারি শিক্ষক রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস শিক্ষক সংকট মেটাতে গত ২রা আগষ্ট মগুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে ডেপুটেশানে বিদ্যালয়টিতে পাঠিয়েছেন। এছাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে বেসরকারিভাবে অন্য ২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিয়মিত সহকারি শিক্ষক তাছলিমা নুরের গত ৫ই জুলাই মার্তৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি এখনো বিদ্যালয়ে যোগ দেননি। যার ফলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিক্ষক তাছলিমা নুরকে গত ৬ই আগষ্ট বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি নিয়ে শোকজ নোটিশ প্রদান করলেও তিনি শোকজ নোটিশ গ্রহণ করছেন না।
বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আফসানা, শাবনুর বলেন, বিদ্যালয়ে ক্লাশ করতে গিয়ে আমাদেরকে ভবন ধ্বসে পড়ে প্রাণহানির আতংকে থাকতে হয়।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টিতে ভবন এবং শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকট মেটাতে আমরা গ্রামবাসীর উদ্যোগে বেসরকারিভাবে ২জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। ওয়াশ বøকের কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও এখনো অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার বলেন, ভবন সংকটে পরিত্যাক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণী কার্যক্রম নিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পরিত্যাক্ত ভবনে ক্লাশ নিতে রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু ভবন সংকটে আমরা বাধ্য হয়ে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালে বিদ্যালয়ের ওয়াশ বøকের কাজ শুরু হলে গত ৬ বছরেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়াশ বøকের কাজ শেষ না করায় আমাদেরকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com