
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ে উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এ সময় উড়োজাহাজের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্লাইট এফজেড-১০৭৩ নামের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সটি দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এতে প্রায় ১৫০ জন ইসরায়েলি যাত্রী ছিলেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিওতে উড়োজাহাজের ভেতরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। কয়েকজন যাত্রীকে আতঙ্কে চিৎকার করতে দেখা যায়। দুজন ব্যক্তি মেঝেতে পড়ে ছিলেন এবং তাঁদের অক্সিজেন মাস্ক পরানো হয়েছিল। তাঁদের একজনের পোশাকে রক্তের দাগ ছিল। উড়োজাহাজের দেয়ালেও রক্তের চিহ্ন দেখা যায়।
এক যাত্রী জরুরি সহায়তা চেয়ে বলেন, তাঁরা সৌদি আরবের তাবুক এলাকায় রয়েছেন এবং জায়গাটি তাঁদের পরিচিত নয়। তিনি জানান, পাইলট ছাড়া অন্য যাত্রীরা নিরাপদে আছেন এবং দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
ফ্লাইটের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। হঠাৎ দুই মিনিটেরও কম সময়ে সেটি ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর উড়োজাহাজ থেকে একাধিক জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটি জর্ডান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ঘুরে পরে দক্ষিণ দিকে যেতে থাকে।
ঠিক কী কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন যাত্রীর বক্তব্যে ককপিটে সহিংসতার কথা উঠে এসেছে।
এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ পুরো উড়োজাহাজে চিৎকার শুরু হলে কয়েকজন যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান। সেখানে তাঁরা একজন আহত পাইলটকে দেখতে পান এবং অন্য পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
যাত্রীদের কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, ককপিটে থাকা এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েকজন যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করেন।
দালিয়া শপিগেল নামের এক যাত্রী জানান, তিন থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তাঁরা আহত পাইলটকে সহায়তা দেন এবং হামলাকারীকে আটক করেন।
আরেক যাত্রী মিরিয়াম শিরা ওহায়ন দাবি করেন, সহকারী পাইলট অন্য পাইলটকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব দাবি এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উড়োজাহাজে থাকা আরও দুই পাইলটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে যাত্রীদের বক্তব্যে জানা গেছে। তাঁদের একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তাঁরা ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন, সেটিকে স্থিতিশীল করেন এবং পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান।
বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ককপিটে কীভাবে অন্যরা প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অসপ্রে ফ্লাইট সলিউশন্সের ঝুঁকি বিভাগের প্রধান স্তানিস্লাভ বুখমান বলেন, ককপিটে জরুরি প্রবেশের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। পাইলট অচেতন হয়ে পড়লে কেবিন ক্রুরা সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারেন। তবে পাইলট সচেতন থাকলে নিরাপত্তার কারণে সেই প্রবেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার ব্যবস্থাও থাকে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ককপিটের দরজা কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা বলার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ক্যাপ্টেন নিজে দরজা খুলে থাকতে পারেন, আবার কেবিন ক্রুরাও জরুরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দরজা খুলে থাকতে পারেন।
ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, উড়োজাহাজে থাকা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রুরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিরাপদে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করেন এবং তাবুকে অবতরণ করান।
তবে ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীদের বিমান থেকে বের করে আনা হয়। তাঁদের কয়েকজনের শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পরে সৌদি আরব থেকে বিকল্প উড়োজাহাজে তাঁদের ইসরায়েলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনার পুরো বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। বিশেষ করে ককপিটে সংঘর্ষের কারণ, উড়োজাহাজের আকস্মিক উচ্চতা হারানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাবে। - দ্য গার্ডিয়ান
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com