
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার কাজে পিছিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এনসিটিবি জানিয়েছে, এবার ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মোট ৬২৩টি লটে পাঠ্যবই ছাপার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য বিপুলসংখ্যক বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে।
গত বছরের তুলনায় এবার এক মাস আগে বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি ছাপা হয়েছে। এ স্তরে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ বইয়ের।
অন্যদিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি। এ হিসাবে প্রাথমিক স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি মাসের মধ্যেই এ দুই স্তরের বই মুদ্রণের কাজ প্রায় পুরোপুরি শেষ হবে।
ইবতেদায়ি স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি ছাপা হয়েছে। এ স্তরে মুদ্রণ অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।
মাধ্যমিক স্তরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য নির্ধারিত ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ছাপা হয়েছে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি। এ হিসাবে মুদ্রণ অগ্রগতি ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপার কাজ এগিয়ে থাকলেও অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে অগ্রগতি তুলনামূলক কম। কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলেন, কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি ছাপাখানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মুদ্রণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। এ জন্য মোট ৫৩টি পর্যবেক্ষক দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
এনসিটিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানদণ্ড পূরণ না করায় ৩৬টি ছাপাখানার প্রায় ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কোনো বই সরবরাহ করা যাবে না।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মুদ্রণ চলতি মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের বইও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, এবার বই গ্রহণের সময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি বইয়ের মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পর মানের ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপানো বই সরবরাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বইয়ের জন্য যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কম খরচের অজুহাতে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের সুযোগ না থাকে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বইয়ের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত পাঠ্যবই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই পাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া
সহযোগী সম্পাদক: তোফায়েল আহমেদ
অফিস: সম্পাদক কর্তৃক আজমিরী প্রেস, নিউমার্কেট চান্দিনা প্লাজা, কুমিল্লা থেকে মুদ্রিত ও ১৩০৭, ব্যাংক রোড, লাকসাম, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। ফোন: ০২৩৩৪৪০৭৩৮১, মোবাইল: ০১৭১৫-৬৮১১৪৮, সম্পাদক, সরাসরি: ০১৭১২-২১৬২০২, Email: laksambarta@live.com, s.bhouian@live.com