
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করা হচ্ছে না বলে সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এর মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং বাকি ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে নতুনভাবে বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ (২০২৫), সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ (২০২৬) এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ—এই চারটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পাবে।
এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, গণভোট, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা, তথ্য অধিকার (সংশোধন), মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংকসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে ভবিষ্যতে আরও যাচাই–বাছাই করে শক্তিশালী করে নতুনভাবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন।
এ ছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, পুলিশ কমিশন, শ্রম আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ রয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটি জানায়, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি, ১৫টি সংশোধন করে এবং ১৬টি ভবিষ্যতে নতুনভাবে আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমান অধিবেশনে কার্যত বাদ পড়ছে।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়।