👁 504 Views

আগামী বিজয় দিবস উদ্‌যাপিত হবে গণহত্যাকারীদের শাস্তির রায় দিয়ে: আসিফ নজরুল

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার বিচারকাজ আগামী বিজয় দিবসের আগেই শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘আগামী বিজয় দিবস হবে গণহত্যাকারীদের শাস্তির রায়ের উদ্‌যাপন।’

আজ শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী সংলাপের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। এই অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যা: বিচারের চ্যালেঞ্জ’। সংলাপের আয়োজন করে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ নামের একটি সংগঠন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংলাপে বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান তিনটি দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অন্তত চারটি বড় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—জুলাই–আগস্ট গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড এবং ধারাবাহিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনাগুলোর বিচারকাজ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তথ্যের ঘাটতি।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আইনটি অনুমোদনের আগে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। অনুমোদনের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কেন পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আসিফ নজরুল ব্যাখ্যা করেন, আইনটিতে কম্পিউটারভিত্তিক অপরাধের বিষয়গুলো রাখা হয়েছে কারণ এ ধরনের অপরাধ দমন ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। তদন্ত পর্যায়ে থাকা মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার করবে, আর বিচারিক পর্যায়ে থাকা মামলা আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা সম্ভব।

উন্নয়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থকেন্দ্রিক দাবিদাওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ সময় ব্যক্তিগত এসব দাবি পূরণে ব্যয় হয় বলে তিনি জানান।

সংলাপের শেষ দিকে তিনি বলেন, সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে—এ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সেটা যেন অনৈক্যের পর্যায়ে না পৌঁছায়।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *