👁 605 Views

ইমাম, যাজকসহ উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাসিক সম্মানী দেবে সরকার

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

এর পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সম্মানীর আওতায় আসবেন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমামরা মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমরা ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন ৫ হাজার টাকা, সেবায়েতরা ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষদের জন্য ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষদের জন্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে গির্জার যাজকেরা পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী যাজকেরা ৩ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী।

রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া হবে ২ হাজার টাকা করে ভাতা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও জানান, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মসূচিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। প্রথম ধাপে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ২০২৭–২৮ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ২০২৮–২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯–৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *