
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ইরান নিজের ‘শর্ত অনুযায়ী’ শেষ করতে চায় বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো নেগার মোর্তাজাভি। তার মতে, এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোর্তাজাভি বলেন, ইরানের প্রধান লক্ষ্য হলো শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে যুদ্ধ শেষে আগের মতো দুর্বল অবস্থায় ফিরে যেতে না হয়। গাজা, লেবানন বা সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চায় না তেহরান। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বারবার হামলা চালানোর সুযোগ বন্ধ করতেও চায় তারা।
প্রতিরোধের পাশাপাশি ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবছে দেশটি। এমনকি, বৈশ্বিক নৌপথের মতো এখান দিয়েও চলাচলে ফি আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ইরান।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও অস্থির বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র এফফি ডেফ্রিন জানিয়েছেন, তাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন নেই এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
আল জাজিরার মোহাম্মদ ভ্যালের মতে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ইরানে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। একই সময়ে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় এক শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গতি বাড়িয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ ইসরায়েলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা