
জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক ২০২৬ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা পদক, সনদ ও নির্ধারিত অর্থ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
যারা পেলেন একুশে পদক
এ বছর শিল্পকলা ও সমাজজীবনের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য যাঁরা সম্মানিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে—
- অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য ফরিদা আক্তার ববিতা
- চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার
- স্থাপত্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম
- সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু
- নৃত্যে অর্থী আহমেদ
- বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার
এ ছাড়া সাংবাদিকতায় আজীবন সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ শফিক রেহমান–কে পদক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জসও এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
এ বছর প্রথমবারের মতো কোনো ব্যান্ড দল হিসেবে সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ একুশে পদক গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
একুশে পদকের তাৎপর্য
১৯৭৬ সাল থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রদান করা হয়ে আসছে একুশে পদক। ভাষা আন্দোলন, শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতায় অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে তিনি ঐতিহাসিক অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।