বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুমিল্লায় সতর্ক অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

কুমিল্লায় সতর্ক অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
Views

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ গতকাল মঙ্গলবার সকালেই শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা, আর সেই শেষ লগ্নে এসে নির্বাচনী মাঠ যেন রীতিমতো উৎসবমুখর ও জমজমাট হয়ে উঠেছে। ওইদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ছুটে বেড়িয়েছেন স্বস্ব আসনের প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে। কোথাও পথসভা, নির্বাচনী জনসভা, কোথাও উঠান বৈঠক, আবার কোথাও গণসংযোগে উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের সামনে। শহর থেকে গ্রাম, হাট-বাজার থেকে পাড়া-মহল্লা সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন। কুমিল্লার মোট ১১টি সংসদীয় আসনেই প্রায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বড় দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নামিয়েছেন সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে। জেলার ১১টি আসনে মোট ৮৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। ফলে নির্বাচনী উত্তাপ ও কৌতূহল দু’টোই বেড়েছে বহুগুণ। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবাসহ  নাগরিকদের মৌলিক অধিক প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও নিরাপদ সমাজ গঠনের নানা আশ্বাস নিয়ে। অনেক এলাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও রাজনৈতিক সমীকরণ ও শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে চুল ছেড়া আলোচনা। আগামীকাল ১২ই ফেব্রæয়ারি ভোটগ্রহণের দিনে কুমিল্লা জেলার ১৪৯১টি ভোটকেন্দ্রে অর্ধকোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটেই নির্ধারিত হবে কে হবেন তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ভোটারদের মধ্যে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে রয়েছে আলাদা আগ্রহ, কারণ তারাই অনেক ক্ষেত্রে জয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

            নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠে সরব রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।

            আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অনিয়মের সুযোগ দেয়া হবে না এবং ভোটারদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ভোটারদের মধ্যেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বস্তির ভাব দেখা যাচ্ছে। এদিকে ভোটের দিনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার ১১টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন জেলার ১৭টি উপজেলায় স্ব স্ব সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো এসব ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী যথাসময়ে ১৪৯১টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। যাতে ১২ই ফেব্রæয়ারি নির্ধারিত দিনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়। নির্বাচন কমিশনের তত্ত¡াবধানে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা।

            কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় অর্ধকোটি ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালট ১ লাখ ১১ হাজারের মত। প্রতি আসনের ভোটারের জন্য ব্যালট পেপার স্ব স্ব উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। ১২ই ফেব্রæয়ারি ৮৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ন হবে।

            কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, আমরা কোন আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছিনা। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে গুরুত্ব বুঝে আইনÑশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

            কুমিল্লা জেলা রিদানিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ব্যালট পেপার পরিবহন ও সংরক্ষণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা থাকবে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে সেনা, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। তারা ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

Share This

COMMENTS