শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাঁদপুর-২ আসনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার: গণমানুষের প্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আব্দুল মবিন চৌধুরী

চাঁদপুর-২ আসনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার: গণমানুষের প্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আব্দুল মবিন চৌধুরী
১৫ Views

ষ্টাফ রিপোর্টার॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আব্দুল মবিন চৌধুরী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সহকারী সেক্রেটারি এবং এই আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি আজ গণমানুষের অধিকার আদায়ের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তিনি একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক মতলব গড়ার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অধ্যাপক ডা. আব্দুল মবিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও পেশাগত জীবন মেধা ও সততার এক অনন্য দলিল।

১৯৫৫ সালের ১লা জানুয়ারি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ওটার চর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই কৃতি সন্তান ১৯৭০ সালে ওটার চর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ১৯৭২ সালে মতলব ডিগ্রি কলেজ থেকে উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে (দুই বিষয়ে লেটারসহ) উত্তীর্ণ হন। সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি সার্জারীতে এমসিপিএস এবং এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও ১৯৯৮ সালে তিনি এফসিজিপি কোর্স সম্পন্ন করেন। বস্তুত: এর আগে ১৯৮৮ সালে ডব্লিউএইচও (WHO) থেকে এমপিএইচ করার স্কলারশিপ পেলেও শুধু শতবর্ষী পিতার সেবায় তিনি দেশেই থেকে যান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রাজনৈতিক নেতৃত্বে ডা. মবিনের আদর্শ ও সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনে ছাত্র নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকা এই ব্যক্তিত্ব ১৯৭১ সালে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএলএফ-এর সাথে সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার এই বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাকে বিশেষ মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সাংগঠনিকভাবে চিকিৎসা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানের নিমিত্তে অবস্থানের কারণে তিনি তখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লাকসাম উপজেলার সাবেক আমীর হিসেবেও সফল দায়িত্ব পালন করেছেন।

লাকসামবার্তা’র সম্পাদক শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া’র সাথে আলাপচারিতায় ডা: মবিন জানান, মতলব-এর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে তার মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের অবহেলিত মতলব উপজেলার উন্নয়ন সাধন এবং পাশাপাশি রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, জুলুম ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ইনসাফ কায়েম করা। ওদিকে, পেশাগত জীবনে তিনি ১৭ বছর সরকারি চাকরিতে মেডিকেল অফিসার, ইউএইচএফপিও (UHFPO) ও ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবেও অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার উত্তরাস্থ আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি স্বনামধন্য লাকসাম কমপ্যাথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কুমিল্লা পপুলার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচিত রয়েছেন। সমাজসেবায় তিনি গত ২৫ বছর ধরে সফলতার সাথে মতলব আইডিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং একাধিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

চাঁদপুর- ২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক ডা. আব্দুল মবিন চৌধুরী বলেন, “প্রকৃতপক্ষে আমি কোনো উচ্চাভিলাষ নিয়ে নয়; বরং জনগণের সেবক হিসেবে এই অবহেলিত মতলব জনপদের পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নিয়ে এলাকার জনগণের দোয়া ও সমর্থনে আমি একটি আদর্শ ও নিরাপদ মতলব উপহার দিতে চাই।” সর্বোপরি, মতলব-২ আসনের এমপি প্রার্থী উল্লিখিত ডা. আবদুল মবিন সর্বশেষে আরও জানান যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত ইশতেহারে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে. বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি হোটেলে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের এই ২৬ দফা ইশতেহার হলো:

১. ‘জাতীয় স্বার্থ আপসহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন,

২. বৈষম্যহীন, দায় ও ইনসাফহিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন,

৩. যুবকদের ক্ষমতায়ণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া,

৪ নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন,

৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাখাদে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্তে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ,

৬. সকল পর্যায়ে সব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন,

৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন,

৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টর ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিত নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ,

৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ,

১০ সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা,

১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা,

১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে,

১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা,

১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূনা ডিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা), বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া,

১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি,

১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা,

১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,

১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়: বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেরে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা,

১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রাম বিনামূলো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা,

২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা, ২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা,

২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা,

২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা,

২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা,

২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং

২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

Share This