
কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না সরকার—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে কিছু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের বর্তমান সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, তা আমরা উপলব্ধি করি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি, সেগুলো থেকে একচুলও সরে আসব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো বাড়তি সময় লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ মহাখালীর কড়াইলের বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় বিএনপির দলীয় সংগীত। অনুষ্ঠানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বক্তব্য দেন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্ড প্রদান শেষে তিনি ল্যাপটপে একটি বাটন চাপলে সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ পৌঁছে যায়। এ সময় করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চান—যে সরকার জনগণ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের মানুষের কাছে, বিশেষ করে নারীদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আল্লাহর রহমতে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পেরেছি।
নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত স্লোগান—“করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ”—উচ্চারণ করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।