তারেক রহমানের হাত ধরেই রচিত হতে যাচ্ছে এক আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাস!

সিফাত বিনতে ওয়াহিদ॥ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে গত ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ‘পুরুষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিষিক্ত হতে চলেছেন (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে)।

তবে এর চেয়েও বড় বিস্ময়কর ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার বয়স। ৬০ বছর বয়সে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি দেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের নাম রেকর্ড বইয়ে তুলেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক ব্যতিক্রমী ঘটনা- যেখানে সাধারণত: সরকার প্রধানরা তাঁদের পঞ্চাশের কোঠায় বা তারও আগে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন। তবে বয়স তাকে প্রবীণত্বের তকমা দিলেও তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা ধারণে তিনি যে সমসাময়িক যেকোনো নেতার চেয়ে অগ্রগামী- তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রচারণায়।

তারেক রহমানের ৬০ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও গবেষণামূলক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৫২ বছর। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার বয়স ছিল ৪৬ বছর।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৯ বছর। সে তুলনায় তারেক রহমানের ৬০ বছর বয়সে প্রথমবার সরকার প্রধান হওয়াকে বিশ্লেষকরা দেখছেন এক ‘পরিণত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার’ অভিষেক হিসেবে। তারা বলছেন, যেখানে তার পূর্বসূরিরা তুলনামূলক কম বয়সে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসীন হয়েছিলেন, সেখানে তারেক রহমান দীর্ঘ সংগ্রাম, কারাবরণ এবং নির্বাসির জীবনের এক বিশাল অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন। এই দীর্ঘ সময় তাকে কেবল ধৈর্যশীলই করেনি; বরং তাকে দিয়েছে গভীরতর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি- যা তাকে দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসিয়েও তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রাসঙ্গিক রেখেছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে সরকার প্রধান হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ও ইতিবাচক একটি চর্চা।

আধুনিক গণতন্ত্রের মানদণ্ডেও বয়সের চেয়ে অভিজ্ঞতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসেন, তখন তার বয়স ছিল ৬৩ বছর। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জো বাইডেন ৭৮ বছর বয়সে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতেও দেখা গেছে, প্রবীণ নেতারাই তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ৬০ বছর বয়স আসলে কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং একটি অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতা আনার জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স। তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন- যখন তার মাঝে তারুণ্যের উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রবীণের দূরদর্শিতা- দুইটি গুণেরই এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। এই বয়স তাকে আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার-বুদ্ধি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।

মূলতঃ বয়সের বিচারে তিনি প্রবীণতম হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কাছে তারেক রহমান এখন সবচেয়ে ‘স্মার্ট, তরুণ হৃদয়ের এবং প্রযুক্তি-বান্ধব’ নেতা হিসেবে সমাদৃত। এই বৈপরীত্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, তারেক রহমান তার ৬০ বছর বয়সকে কেবল একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ রেখেছেন, কিন্তু তার কর্মপরিকল্পনা ও চিন্তাধারায় রয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতা। বিগত কয়েক বছর প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তৃণমূলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এবং দলের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। তরুণরা তাকে কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়; বরং একজন ‘আইকন’ হিসেবেও দেখছেন, কারণ তিনি ফাইভ-জি প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং এর প্রসার এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে যে স্বপ্ন দেখান, তা দেশের লাখ লাখ বেকার শিক্ষিত যুবকের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।

ওদিকে, তারেক রহমানের পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে তার মার্জিত বাচনভঙ্গি এবং উপস্থাপনা তাকে একজন ‘কর্পোরেট রিডার’ বা ‘আধুনিক স্টেটসম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা সাধারণত বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিতে দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেছেন, “তারেক রহমান বয়সের সংখ্যায় ৬০ ছুঁয়েছেন ঠিকই, কিন্তু চিন্তার আধুনিকতা, সাহসিকতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির দিক থেকে তিনি অনেক ১৮-২০ বছরের তরুণের চেয়েও অনেক বেশি টগবগে তরুণ। তিনি কেবল একজন নেতা নন; তিনি আমাদের দলের জন্য এক আধুনিক দর্শনের নাম। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও দেশের মাটি ও মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।”

 

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি প্রতিটি পাড়া-মহল্লার খবরাখবরও নখদর্পণে রাখতেন। দেশের কোথাও কোনো সাধারণ মানুষ কষ্টে থাকলে বা কোনো অন্যায়ের শিকার হলে, তিনি তৎক্ষণাৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের সঙ্গে বসে সেই সমস্যার সমাধান এবং মানুষের কল্যাণে কী করা যায়, তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। তার এই যে বিরামহীন কর্মস্পৃহা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৃণমূলকে পরিচালনা করার দক্ষতা, তা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। মূলত তারুণ্যদীপ্ত ভাবনা আর অভিজ্ঞতাপুষ্ট সিদ্ধান্তের এক চমৎকার সংমিশ্রণই হলো আমাদের নেতা তারেক রহমান।”

 

অপরদিকে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার আধুনিক চিন্তাধারা যা বয়সের সীমানাকে জয় করেছেন। তিনি যখন কৃষকদের জন্য ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার’ বা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা ঋণ’ ও ‘প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের’ কথা বলেন, তখন দেশের তরুণ সমাজ তার মধ্যে নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে একটি এনালগ ঘরানার দল থেকে ডিজিটাল ও আধুনিক সংগঠনে রূপান্তর করার একক কৃতিত্ব তারেক রহমানের। নির্বাচনে জয়লাভের পর তাকে নিয়ে যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে তার এই স্মার্ট ইমেজ। তিনি বয়সে প্রবীণ হলেও তার কর্মস্পৃহা ও ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘তরুণ ভাবনার’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, এই আধুনিকতাই তাকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে, যা ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। তারেক রহমান কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী নন; বরং তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যতের এক রূপকার হিসেবেও আবির্ভূত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, “তারেক রহমানের রাজনীতিতে এই যে আমূল রূপান্তর, একে আমি ‘রাজনৈতিক বিবর্তনবাদের’ একটি সফল ও সার্থক উদাহরণ হিসেবে দেখি। বাংলাদেশের গতানুগতিক ক্ষমতার রাজনীতিতে সাধারণত আমরা বিজয়ী পক্ষের মধ্যে এক ধরণের প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু ৬০ বছর বয়সে এসে তারেক রহমান যে ধরণের সংযম, সহনশীলতা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সৌজন্য দেখিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব রাজনীতিতে ৬০ বছর বয়সে কোনো নেতার সরকার প্রধান হওয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটা এমন এক বয়স যখন মানুষের মধ্যে আবেগের চেয়ে প্রজ্ঞা এবং হঠকারিতার চেয়ে স্থিতিশীলতা বেশি কাজ করে। তিনি যেভাবে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করছেন এবং একই সাথে অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার রোডম্যাপ সাজিয়েছেন, তা তাকে একজন আধুনিক ও দূরদর্শী ‘স্টেটসম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার এই ‘স্মার্ট স্টেটসম্যান’ ইমেজই মূলত: তাকে সাধারণ ভোটার এবং বিশেষ করে শিক্ষিত সুশীল সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।”

মূলতঃ তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং নির্বাচনের আগে তার বিরামহীন প্রচারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মহাকাব্যিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। দীর্ঘ সতেরো বছর পর যখন তিনি বাংলার মাটিতে পা রাখলেন, তখন লাখো মানুষের জনস্রোত প্রমাণ করেছিল যে, তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে তিনি যেভাবে প্রতিদিন একাধিক জেলায় জনসভা করেছেন এবং বিরামহীনভাবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন, তা ছিল বিস্ময়কর। প্রতিদিন ৪-৫টি বড় জনসভায় বক্তব্য রাখা এবং প্রতিটি সভায় নতুন নতুন উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা ছিল তার অসামান্য শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। এই বিরামহীন প্রচারণাকে অনেকে ‘তারেক বসন্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ তার প্রতিটি সভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রাজনীতির মাঠের খরা কাটিয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। তিনি কেবল মঞ্চে ভাষণ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তৃণমূলের সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন, যা সাধারণ ভোটারদের মনে তার প্রতি গভীর আস্থার জন্ম দিয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, তারেক রহমানের এবারের নির্বাচনি কৌশলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তৃণমূলের সাথে সরাসরি সংযোগ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি। তিনি প্রবাসে থাকাকালে যে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন, দেশে ফেরার পর তাকে পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর করেছেন। বিশেষ করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর অথচ নমনীয় অবস্থান এবং যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়া দলের ভেতরের দীর্ঘদিনের কোন্দল নিমিষেই মিটিয়ে দিয়েছে। তিনি যেভাবে প্রত্যেকটি আসনের প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, তা দলকে একটি ইস্পাতকঠিন ঐক্যে পরিণত করেছিল। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, তারেক রহমানের এই অক্লান্ত পরিশ্রমই বিএনপিকে একটি বিশাল জয় উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি কেবল বড় শহরগুলোতে নয়; বরং প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও তার উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে রোডম্যাপ তিনি প্রতিটি জনসভায় ব্যাখ্যা করেছেন, তা গ্রাম ও শহরের ব্যবধান ঘুচিয়ে ভোটারদের এক সুতায় গেঁথেছিল। এই নেতৃত্বই মূলত তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় হলো দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের সংস্কৃতি। তবে তারেক রহমান এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এক নতুন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির ডাক দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনের ময়দানে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই থাকলেও, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি যেভাবে সৌজন্যবোধ দেখিয়েছেন, তা এ দেশের রাজনীতিতে বিরল। বিশ্লেষকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করছেন- নির্বাচনের পর তার সেই যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা, যেখানে তিনি বিজয়ের উন্মাদনায় না মেতে বরং প্রতিপক্ষের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারেক রহমান নির্বাচনে জয়ের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলামের বাড়িতে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বিশাল গুণগত পরিবর্তন এনেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের প্রধানমন্ত্রীই হতে যাচ্ছেন না; বরং তিনি সারা দেশের এবং সব মতের মানুষের নেতা হতে চান। এই সৌজন্যমূলক আচরণ সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলেও তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিপক্কতা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে নির্বাচনের পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে। তিনি সেখানে অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, “নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে! এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি বক্তব্যই বাংলাদেশের প্রতিহিংসার রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেখানে অতীতে বিজয়ী দলগুলো পরাজিতদের ওপর চড়াও হতো, সেখানে তারেক রহমানের এই সংযত ও দায়িত্বশীল আহ্বান দেশকে এক বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা করেছে। তার এই নমনীয় নেতৃত্বই মূলত বিএনপিকে একটি আধুনিক ও জনমুখী দল হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে মেধা ও যোগ্যতার, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো স্থান থাকবে না। তার এই দূরদর্শী অবস্থান তাকে একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিশাল বিজয়ের পর সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে আনন্দ মিছিল, স্লোগান এবং বাদ্যযন্ত্রের তালে উৎসবে মেতে ওঠে। কিন্তু তারেক রহমান এখানেও এক ভিন্নতর ও গভীর জীবনবোধের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পরও কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিবর্তে তিনি সারা দেশে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের জন্য দোয়া মাহফিলের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নির্দেশ নয়; বরং এটি তার আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উচ্চতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই বিজয় কোনো ব্যক্তিগত অহংকারের বিষয় নয়, বরং এটি জনগণের দেওয়া এক বিশাল আমানত। আনন্দ মিছিলের বদলে দোয়া মাহফিলের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মনে তার প্রতি সম্মান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিকদের কাছে তার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে, যা তাকে একজন সংযমী ও ধীরস্থির নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার বদলে চরম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন- কারণ তিনি জানেন সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে গুরুভার তার ওপর অর্পিত হয়েছে, তার জন্য উৎসব নয়; বরং কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা প্রয়োজন। দোয়া মাহফিলের আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদেরও এই বার্তাই দিয়েছেন যে, এখন সময় জনসেবার, উদযাপনের নয়। এই ধীরতা এবং দায়িত্ববোধই তাকে বাংলাদেশের আগের যে কোনো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। তিনি প্রবাসে কাটানো দীর্ঘ সময়কে আত্মশুদ্ধি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার প্রতিফলন এখন প্রতিটি পদক্ষেপে দেখা যাচ্ছে। তরুণদের নিয়ে তার যে ভাবনা, তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে তাদের জন্য জায়গা করে দেওয়া, তা বাস্তবায়নে তিনি এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছেন। তারেক রহমানের এই পরিমিতিবোধ ও দূরদর্শী নেতৃত্বই বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সুধী সমাজ।

তারেক রহমান কেবল বাংলাদেশের দ্বিতীয় পুরুষ প্রধানমন্ত্রী বা সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছেন না; বরং তিনি আসছেন একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অগ্রদূত হিসেবে। তার নেতৃত্বের যে আমূল পরিবর্তন দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক শুভ বার্তা বলে আখ্যায়িত করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার যে বীজ তিনি বপন করেছেন, তা যদি ফলপ্রসূ হয়, তবে বাংলাদেশ সত্যি একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মনে করেন তারা।

বয়সের ভার নয়, বরং অভিজ্ঞতার উজ্জ্বল আলোয় তারেক রহমান আলোকিত করছেন আগামীর পথ। তার এই “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন এখন কোটি মানুষের স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই জয় কেবল বিএনপির জয় নয়; বরং তা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও পরিবর্তনের জয়। তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ এখন এক নতুন ভোরে প্রবেশের অপেক্ষায়, যেখানে উন্নয়ন হবে টেকসই আর রাজনীতি হবে জনকল্যাণমুখী। ৬০ বছরের এই ‘তরুণ’ প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই রচিত হতে যাচ্ছে এক আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাস- রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা এমনটাই আশা করছেন। Courtesy: banglanews24/ এসবিডব্লিউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *