
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সফরকালে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী এ ধরনের বিশেষ অধিবেশনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে এবার তা নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক অমিতকে আমন্ত্রণ জানানো না হয়, তাহলে তারা মোদির ভাষণ বর্জন করবেন।
আগামী বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনের সফরে মোদি ইসরায়েলে পৌঁছাবেন। সফরে তাঁর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
লাপিদ দাবি করেছেন, এটি বর্জনের ডাক নয়; বরং সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদের একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে। তিনি বলেন, ভারতীয় দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষায়, “এক শ কোটির বেশি মানুষের দেশের প্রধানমন্ত্রী নেসেটে ভাষণ দেবেন, আর সংসদ অর্ধেক খালি থাকবে—এমন পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয়।”
ইসরায়েলে বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা দেশটির রাজনীতিকে গভীরভাবে বিভক্ত করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগ পর্যন্ত কয়েক মাস ধরে এ ইস্যুতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইজ্যাক অমিত সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এখনো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি গেজেটে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন বিশ্বনেতার ভাষণেও অমিতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি নেসেটের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অধিবেশনও বিরোধীরা বর্জন করে।
নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য লাপিদ ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে অবৈধ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জবাবে লাপিদ বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই ইসরায়েলের মর্যাদা বা ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করতে চান না। বরং প্রটোকল অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানোই উচিত। তাঁর দাবি, বিচারপতি অমিতকে বাদ দেওয়া মানে কার্যত বিরোধী দলকেও বাদ দেওয়া।
সব মিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক প্রটোকলের প্রশ্ন নয়; বরং বিচার বিভাগীয় সংস্কারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজনেরই বহিঃপ্রকাশ।