নোয়াখালী-১ আসনে লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লায়


নিজস্ব প্রতিনিধি\ নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিএনপি অধ্যুষিত এ আসনটি ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ড সুদৃঢ় করেছেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের দলীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ দেখা দিয়েছে। তরুণ ভোটাররাও এ নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
এ আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও ভোটের লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। আসনটি চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। পুরুষ ভোটার ২,২১,৩৫০ জন ও মহিলা ভোটার ২, ১৭,৪৮১ জন। পোস্টাল ব্যালেট রেজিস্ট্রেশনকৃত ভোটার সংখ্যা ১৩,৫৯২ জন। এ আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪১টি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দু’টি উপজেলার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। ব্যারিষ্টার খোকন জানান, এ আসনের ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করবেন। এ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন, জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও কড়িহাটি ছালেমিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফ উল্লাহ দাঁড়িপালা প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী জনসভা, মহিলা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, কর্মি সভা, পথসভাসহ ব্যাপক নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। মওলানা সাইফ উল্লাহ জানান, তার প্রতিপক্ষ বিএনপি বিভিন্ন স্থানে তার নারী কর্মীদের বাধা প্রদান করছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তরুণরা পরিবর্তন চায়, তাই এ আসনে ভোটাররা আমাকে নির্বাচনে জয়যুক্ত করবেন।
এদিকে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম (সিআইপি) হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ, জনসভা ও উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করেছেন। জহিরুল জানান, তিনি নির্বাচিত হলে দলীয় আদর্শের ঊর্ধেŸ রেখে নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে কাজ করবেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপিকা রেহানা বেগম (তারা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে নুরুল আমিন (লাঙ্গল), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মশিউর রহমান (আপেল) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস মমিনুল ইসলাম (ডাব) প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। সচেতন ভোটাররা জানান, এ আসনে ভোট লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।
