👁 102 Views

বিক্ষোভের মুখে পুলিশের পাহারায় কলেজ ছাড়লেন দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে প্রায় দিনভর আটকে থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশের পাহারায় কলেজ ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা—আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সেখানে আটকে পড়েন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা কলেজের বাইরে অবস্থান নিয়ে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল—নিহত ও আহতদের সঠিক তালিকা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল, আধুনিক নিরাপদ বিমান চালু, বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সংস্কার এবং শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় সেনাসদস্যদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।

বিকেলে একবার উপদেষ্টারা কলেজ ত্যাগের চেষ্টা করলেও দিয়াবাড়ি মোড়ে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে আবার ফিরে যেতে হয়। পরে কলেজের একাডেমিক ভবনে অবস্থান নেন তারা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনসংলগ্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বেলা পৌনে একটার দিকে উপদেষ্টারা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আসিফ নজরুল বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবি খুবই যৌক্তিক, সরকার প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন করবে।” সরকারের প্রেস উইং থেকেও একইসঙ্গে দাবি স্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া হয়।

তবে এরপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান এবং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপদেষ্টারা পুনরায় কলেজ ত্যাগের চেষ্টা করলে আবার বাধার মুখে পড়েন। তারা কলেজে ফিরে এসে আবারো নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে অবস্থান নেন।

শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে পুলিশের নিরাপত্তায় তিনজন কলেজ থেকে বের হয়ে যান এবং তাঁদের গাড়িবহর দিয়াবাড়ির মেট্রোরেল ডিপোর দিকে চলে যায়।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার মাইলস্টোন কলেজের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে ৩১ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহত হন। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু এবং এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা এবং আজ সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *