হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণা, মুনাফার টোপে ৮৬ লাখ টাকা খোয়া বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার

স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার  কাটলা ইউনিয়নের  নিশিবাপুর গ্রামের কায়েম উদ্দিনের ছেলে  মো. মাসুম রানা (৩৮) ও উত্তর কাটলা গ্রামের  আলিমুদ্দিনের ছেলে মো. শামীম আক্তার (৩৬)।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রটি ‘ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে। উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছে একটি ভুয়া চুক্তিপত্রও পাঠানো হয়।

প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে—নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে—ধাপে ধাপে মোট ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা প্রদান করেন। বিনিময়ে মাসিক লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রতারকরা পরবর্তীতে ওই অর্থ আত্মসাৎ করে।

অর্থ দেওয়ার পর প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং পুরো বিষয়টি একটি প্রতারণা। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিরামপুর উপজেলার কাটলাহাট এলাকায় একটি ফার্মেসি থেকে মাসুম রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রাতের দিকে তাঁর সহযোগী শামীম আক্তারকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এ ধরনের বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *