শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নতুন নীতিমালা জারি, সর্বোচ্চ তিনবার সুযোগ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নতুন নীতিমালা জারি, সর্বোচ্চ তিনবার সুযোগ
৪৩ Views

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির নতুন নীতিমালা–২০২৬ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালায় একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন এবং বদলির ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। এটি দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষকরা প্রথমে নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যেকোনো জেলায় অথবা স্বামী-স্ত্রীর নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন।

বদলির যোগ্যতা ও সীমা

প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর আবার বদলির আবেদন করতে হলে ন্যূনতম দুই বছর সেখানে কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অগ্রাধিকার ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন এলে নারী শিক্ষক, কর্মস্থলের দূরত্ব, এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান) বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।

চাকরির জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী। দূরত্ব নির্ধারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে।

আবেদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলির আবেদন আহ্বান করবে। একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম আবেদনে উল্লেখ করতে পারবেন।

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক (নারী ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে) বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না।

বদলির কর্তৃপক্ষ

বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে এবং ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের আগেই শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Share This