শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
৬০ Views

পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জালিয়াতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভিসা ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে বহু দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) বুধবার ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬-এর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পত্রিকায় প্রায়ই ভুয়া ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হচ্ছে। জালিয়াতির এই প্রবণতা আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে পড়েছে, যা দেশকে এক ধরনের জালিয়াতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করছে। তিনি বলেন, জালিয়াতি করতে যে বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা লাগে, তা যদি ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা যেত, তবে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে পারেন, ভুয়া কাগজপত্রের কারণে বহু বাংলাদেশি নাগরিক সে দেশে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না। ওই দেশটির কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেছেন—অনেকে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ, এমনকি ভুয়া চিকিৎসকের সার্টিফিকেট নিয়েও বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া অনুমতিপত্র, ভুয়া ব্যাংক সার্টিফিকেটসহ নানা ধরনের জাল কাগজপত্র ইস্যু করা হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জালিয়াতির মূল উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ পথে পরিচালিত করতে হবে।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশকে জালিয়াতির দেশ হিসেবে নয়, বরং নিজ গুণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিশ্বে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই মানসিকতা নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং মানুষের সহায়ক সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রযুক্তির গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। কারণ, ইন্টারনেট এখন তাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এই ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাই একটি শক্তিশালী সরকারের পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই আন্দোলন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং এর নেতৃত্বে ছিল তরুণরা। তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ও সক্ষম। সুযোগ পেলে তারা শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও নেতৃত্ব দিতে পারবে।

Share This