কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলের ৬টি আসনে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা


ষ্টাফ রিপোর্টার\ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়ে গেছে। রাত পোহালেই নির্বাচন। এবারের নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে দেশের জনগন।
কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চলের ৬টি আসন থেকে ভোট যুদ্ধে নেমেছে বিএনপি, জামায়াত, জাসদ, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের দখলে থাকা এই আসনগুলোতে ৫ই আগষ্টের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে তা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিফলন ঘটবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোট প্রদানের হার এবং যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা তাদের সমর্থিত ভোটাররাই এই আসনগুলোতে নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে। সবকিছু মাথায় রেখেই এখন এসব আসনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীদের প্রচারনাও শেষ। চলছে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ।
কুমিল্লা-৬ আসনটি সব দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ; জেলা সদর ও সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় এই আসন নিয়ে আগ্রহ সব দলেরই। সকল অফিস আদালতের কেন্দ্র এখানে হওয়ায় এই আসনটিতে বিজয় যে কোন দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬২ জন, পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার এবং মহিলা ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার। ১৯৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টি ভোট কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন হলেও প্রধান শক্তিশালী প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এই আসন থেকে বিদ্রোহ করে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন মনোনয়ন জমা দেয়ায় অস্থিরতা তৈরী হয় দলটিতে। ভোটের মাঠেও বিভক্তি দেখা দেয়। পরে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সমঝোতা হলে হাজী ইয়াছিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে ধানের শীষ নিয়ে প্রাচরণা করেছেন। এতে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে দলটিতে। সম্প্রতি এই আসনে সফর করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তিনি।
ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দল এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা আগের চেয়ে শক্তিশালী। ভোটাররা আমাদেরকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবে। আমরা বলছি, আমরা জয়ী হলে কুমিল্লার মানুষের আকাঙ্খা পূরণে কোন ঘাটতি রাখবো না।
জেলার কেন্দ্রস্থল এই আসনটিতে জয়ী হতে চায় জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশও। এই আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্ব¦ীন মোহাম্মদ। শুরু থেকে একক প্রার্থী থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রচারণায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এছাড়া, ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোও সমর্থন দিচ্ছেন এই প্রার্থীকে। সম্প্রতি জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান এই আসনে সফরে এসে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চান। কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ৫ই আগষ্টের পর এই আসনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা অনেক শক্তিশালী। ভোটাররাও আমাদেরকে ভোট দিবে- ইনশাল্লাহ আমরা বিজয়ী হবো। এ আসনে অন্যতম প্রার্থী এবি পার্টির মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক মনোনয়ন বৈধতা পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করেন।
ভোটের প্রচার-প্রচারণা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।
বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৫ জন। পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার। ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে ৮ জন প্রার্থী থাকলেও এখানে মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলালের মধ্যে।
কুমিল্লা-৮ আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ তিনটি নির্বাচনেই বিজয়ী হন বিএনপি নেতা প্রয়াত একেএম আবু তাহের। তিনি বর্তমান প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের পিতা। ৫ই আগষ্টের আগে সংসদের তিন মেয়াদে এই আসনটিতে কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য হন। এই নির্বাচনে আবারো বিএনপি অংশ নেয়ায় নেতা-কর্মীরা বলছেন, তারা আবারো পুরোনো ঘাঁটি উদ্ধার করবেন।
বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, আমার পরিবার এই অঞ্চলের মানুষের পুরোনো সেবক। আমাদের কোন দুর্নাম নাই। তাই আমি আবারো মানুষের কাছে সুযোগ চাই। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল একজন সুপরিচিত শিক্ষক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য। এবারই তিনি প্রথম দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে নির্বাচন করছেন। দীর্ঘদিন অন্যান্য দলের নিয়ন্ত্রনে থাকা এই আসনটিতে জামায়াতও তাদের কাযক্রম চালিয়ে যায়, ৫ই আগষ্টের পর যা সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে দলটির নেতাকর্মীরা এই আসনে বেশ উজ্জীবিত।
অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান হেলাল বলেন, আমরা বিজয়ী হলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ন্যায় বিচার ব্যবস্থা করবো। আশা করছি কুমিল্লা-৮ আসনের মানুষ আমাকে বিজয়ী করবে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে আগে অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিলন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার তিনি মনোনয়নের বৈধতা পাননি, আসনটিতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন জাতীয় পার্টির মোঃ ইরফান।
লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এই ২ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৩ জন। তম্মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার জন। ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এখানে ৪৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন। এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী যুদ্ধে মাঠে রয়েছেন।
২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল দীর্ঘ সময় এই আসনটিতে সংসদ সদস্য ছিলো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন অন্যহাতে থাকা আসনটি দখলে নেয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম। অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ড. একেএম সরোয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী।
বিএনপি অধ্যুষিত বলে পরিচিত আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন জটিলতায় প্রথমে বিভক্তি ছিলো। দলের বিদ্রোহী হিসেবে প্রাথী হন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল এম. আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা। ফলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সামিরা আজিম দোলা ধানের শীষের আবুল কালামকে সমর্থন দিয়ে যৌথভাবে প্রচারনায় নামে। এতে বিএনপির অস্বস্তি কেটে যায়।
বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, এই আসনে দল এখন ঐক্যবদ্ধ। মুলতঃ এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। বিগত ১৭ বছর ভোট দেয়াতো দূরের কথা; ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারেনি। ২ উপজেলার মানুষ উজ্জিবিত। আমি বিশ্বাস করি এবার ভোটাররা সুষ্ঠু পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী সরোয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী ২০০৯ সালে লাকসাম উপজেলা থেকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আগে জনপ্রতিনিধিত্বে অংশগ্রহণ করায় লাকসাম-মনোগরগঞ্জে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী সরোয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, আমি আগেও মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আশা করি এবার সর্বোচ্চ পরিসরে সংসদ নির্বাচনেও এই এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে।
এই আসন থেকে ইসলামিক ফ্রন্ট প্রার্থী আলহাজ¦ আবু বকর ছিদ্দিক চেয়ার মার্কা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ¦ সেলিম মাহমুদ হাতপাখা, জাতীয় পার্টির প্রফেসর ড. গোলাম মোস্তফা নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
লালমাই ও নাঙ্গলকোট ২ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ আসন। এই আসনে আগে সদর দক্ষিণ উপজেলাও অন্তর্ভূক্ত ছিলো। বর্তমানে এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার। এই আসনে ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে প্রশাসন।
২০০৮ সাল থেকে কুমিল্লা-৯ আসনের মত এই আসনটিও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দখলে ছিলো। নতুন সীমানায় এই আসন থেকে একটি উপজেলা বাদ পড়ায় ভোটের হিসাবে জয় পরাজয় নির্ধারণও হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। এই আসন থেকে অন্যতম প্রতিদ্ব›িদ্ব বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা মোবাশ্বের আলম ভ‚ঁইয়ার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাতও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
এবার এই আসনে প্রার্থী নিয়ে জটিলতা থাকলেও সবশেষ আদালতের মাধ্যমে আসনটি থেকে বিএনপির ধানের শীষ পেয়েছেন মোবাশে^র আলম ভুঁইয়া। আবদুল গফুর ভুঁইয়া ধানের শীষ পেলেও নির্বাচন কমিশন থেকে তার মনোনয়ন বাদ হয়। পরে আইনী লড়াই করেও টেকেনি তার প্রার্থীতা। এই সুযোগে প্রার্থীতা ফিরে পান যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়া মোবাশে^র আলম ভুঁইয়া। যেহেতু দীর্ঘদিন আসনটি অন্যএকটি দলের দখলে ছিলো তাই নতুন করে এই আসনে জিততে সর্বশক্তি ব্যয় করতে হবে বিএনপির মোবাশে^র আলম ভুইয়াকে। দলীয় প্রতীক নিয়ে এলাকায় এসে মোবাশে^র বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মী সবাই আমার আপনজন। যে দ্বিধা ছিলো তা কেটে গেছে। সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন এবং আমাদের বিজয় হবে।
এই আসনে প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী জামায়াতে মজলিশে সূরা সদস্য ও শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত শুরু থেকে বিএনপির বিভক্তি ও কোন্দলের কারণে এককভাবে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সুযোগ পেয়েছেন। ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১১ আসনটি গঠিত। ভারত সীমান্ত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথের কারণে ভৌগলিকভাবে এই আসনটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্¦পূর্ণ। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার জন। আসনটির ১২৭টি কেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। আসনটিতে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে।
জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের এই আসন থেকে দলটির মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী। ২০০১ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। জামায়াত অধ্যুষিত বলে পরিচিত আসনটিতে সাবেক সংসদ সদস্য এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা এই আসনের প্রার্থী হওয়ায় এখানে বিএনপির জন্য লড়াই বেশ শক্ত হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখান থেকে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সবাই আমার আপনজন। আমি এই আসনের সন্তান এবং পরীক্ষিত। দলমত নির্বিশেষে মানুষ আমার পক্ষে থাকবে। আমি তাদের ভোট চাই।
বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, সময় বদলেছে- মানুষ এখন বিএনপিকে চায়।
মানুষ অতীত ভুলে গেছে। নতুন প্রজন্ম এবং তরুন ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আমি আশাবাদী।
