বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডাকাতিয়া নদীর ওপর আমতলী-কেশতলা ব্রীজ যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলে ভোগান্তি

ডাকাতিয়া নদীর ওপর আমতলী-কেশতলা ব্রীজ  যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলে ভোগান্তি
Views

            নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লা জেলার সর্বদক্ষিন প্রান্তে অবস্থিত মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের আমতলী-কেশতলা ডাকাতিয়া নদীর ওপর ব্রীজটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এটি সংস্কার না করায় যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

            এ ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া, আমতলী, কেশতলা, ধিকচান্দা, বচইড়সহ পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত লোকজন লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে। এ অঞ্চলের জনগনের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ ব্রীজটি দিয়ে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। গুরুত্বপুর্ন এ ব্রীজটি সংস্কার না করায় যানবাহন চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। গত বছর আমতলী গ্রামের একজন অটোরিকশাচালক এ ব্রীজ পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে মারা যায়।

            অটোরিকশা চালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রীজের বেহালদশার কারণে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। ভৌগলিক কারণে সড়কটির সঙ্গে ধিকচান্দা, বচইড়, আমতলী, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ সড়কের সম্পৃক্ততা থাকায় প্রতিনিয়ত শত শত যাত্রী ও পথচারী ব্রীজটির ওপর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। এ ব্রীজটি দিয়ে রাতের বেলায় পারাপারে অধিকতর ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্রীজের দু’পাশ অনেক উঁচু হওয়াতে একটি গাড়ি ব্রীজে উঠলে অন্য গাড়ি পার হতে পারে না। যেকোন সময় ব্রীজটি ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

            সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। এখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে বিশেষ করে অপরিচিত কেউ এ সড়কে এলে বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডিকে একাধিকবার অবহিত করেও কাজ হয়নি। সবাই প্রতিশ্রæতি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়ে আর এলাকায় আসেনা।

            আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল আলম বলেন, গত ২০ বছর আগে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রীজের পশ্চিম ও পূর্ব দু’পাশ অনেক উঁচু ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন ৫ শতাধিক যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। এদের অনেককে প্রতিদিন ছোটোখাটো দুর্ঘটনায় কবলে পড়তে হয়। দক্ষিণ পাশের চলমান ব্রীজটি অতি দ্রæত কাজ শেষ করে জনসাধারনের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হোক।

            এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে এ অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে ব্রীজটি সংস্কার করা হবে।

            মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, যে কোনো জনদুর্ভোগে উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Share This

COMMENTS