বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ঐতিহাসিক  করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
Views

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ ও ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত সোমবার প্রায় ৭০ জন সচিবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

            ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাত্র ২ দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।

            প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের অতীত চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের মশকারি। সব কটিই ছিল ভুয়া নির্বাচন। তিনি সচিবদের আশ্বস্ত করেন, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি, প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে।’

            প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকের আগমনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

            প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেগুলোকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোর কোনো জনভিত্তি ছিল না এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যবেক্ষকরাও তখন আসেননি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় বড় কোনো উত্তেজনার খবর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছে।

            নির্বাচনকে আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার জন্য ‘নির্বাচন’ ও ‘নির্বাচন বন্ধু’ নামের দু’টি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। তাঁর আশা, প্রযুক্তির এই ব্যবহার এবারের নির্বাচনকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

            প্রেস সচিব জানান, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে সচিবদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সময়ে প্রায় ১৩০টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব কাজ দ্রæত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সচিবরা যে আন্তরিকতা ও পেশাদারি দেখিয়েছেন, সে জন্য তিনি তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

Share This

COMMENTS