
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (১০ জুন ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা।
প্রার্থীদের অন্য দুটি দাবি হলো—এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) প্রতিবেদনের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ প্রকাশ। দাবি আদায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও প্রায় চার মাস ধরে তাদের যোগদান কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় পাঁচ মাস ধরে অপেক্ষায় থাকায় অনেক প্রার্থী পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন কিংবা অন্য চাকরির সুযোগ গ্রহণ করেননি। ফলে তারা বর্তমানে বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এক নির্বাচিত প্রার্থী বলেন, “আমাদের দাবি হলো বিদ্যালয়ে পদায়নের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী শিক্ষক বা প্রশিক্ষণকালীন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষকদের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়ন করা জরুরি।”
জামালপুর থেকে আসা এক প্রার্থী আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। এই চাকরির আশায় অন্য একটি চাকরির সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। চাকরি অনিশ্চিত থাকায় গত মাসে আমার বিয়েও ভেঙে গেছে।”
তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই তাদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে।