১৩০০ মিটার রাস্তা জনগণের বিষফোঁড়া গ্রামীণ সড়কের করুণ দশা!

            শাহীন চৌধুরী\ সারা দেশের গ্রামীন রাস্তা-ঘাটগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ এবং চলাচলের প্রায় অযোগ্য। বিশেষ করে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বরকোটা এলাকার গৌরীপুর-মতলব সড়কের সংযোগস্থল থেকে মলয় বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৩শ’ মিটার রাস্তার বেহাল দশায় জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার ছোট বড় গর্তগুলোতে পানি জমে জনসাধারণের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়।

            জানা গেছে, এক কিলোমিটারের এই সড়কটি ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেই সড়কটিই এখন স্থানীয়দের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে পানি জমে থাকে। অটোরিকশা, সিএনজি উল্টে প্রাণনাশের শঙ্কাও তৈরি হয়। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

            গৌরীপুর-চাঁদপুর সড়কের বিটেশ্বর থেকে মলয় বাজার পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩শ’ মিটার। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন বিটেশ্বর ইউনিয়নের চন্দ্রশেখরদী, কাদিয়ারভাঙ্গা, নৈয়াইর, নোয়াদ্দা, খানেবাড়ী, কাটারাপাড়া, তিনপাড়া, মাদলা, নোয়াগাও, নোয়াপাড়া, বরকোটা, ডেকরিখোলাসহ চিনামূড়া, ভাগলপুর, মোহাম্মদপুর মলয় গ্রাম এবং আশ-পাশের গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়াও প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। পাশ্ববর্তী ১৫টি গ্রামের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এই রাস্তা দিয়ে বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীকাইল আলিম মাদরাসা, বরকোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া, গ্রামগুলোর জনগণ মলয় বাজারে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করে। অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। কিছু কিছু অংশে রাস্তা ভেঙ্গে সরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এতে হাত-পা ভেঙ্গে অসুস্থ হয়েছে অনেকেই।

            সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীপুর-মতলব সড়কের সংযোগস্থল থেকে শুরু করে রাস্তার শেষ অংশে মলয় বাজার পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত হয়ে প্রায় পুরো রাস্তারই কার্পেটিং ওঠে গেছে এবং রাস্তার পাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি পুকুর থাকায় রাস্তার ওই অংশগুলো পুকুরের দিকে ঢালু হয়ে ভেঙে গেছে। এ কারণে রাস্তার অংশগুলো সরু হয়ে গেছে। এই অংশগুলোতে অপর দিক থেকে আসা কোন গাড়িকে সাইড দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ভাঙা অংশগুলোতে এপারের একটা গাড়ি ওপারে পার হওয়ার পরে ওপারের একটা গাড়িকে এপারে আসতে হয়। এতে রাস্তার কয়েকটি অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

            অটোরিকশা চালক শাহজালাল বলেন, রাস্তা অতিরিক্ত খারাপের কারণে প্রতিদিনই রিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যন্ত্রাংশ কিনে রিকশা মেরামত করতে গিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। রাস্তার দ্রæত সংস্কার চাই।

            বরকোটা গ্রামের দোকানদার আলি মিয়া বলেন, রাস্তার ভাঙা অংশগুলোর কারণে বিভিন্ন সময় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং গাড়ি সাইড দেয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে অনেকের হাত পা ভেঙে যায়।

            নোয়াপাড়া গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, পূর্বেও রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল কিন্তু বড় বড় ট্রাক এই রাস্তা ব্যবহার করার কারণে দ্রæতই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু এটি গ্রামীণ রাস্তা বড় ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলে রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হতো।

            বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, রাস্তার এই করুণ দশার কারণে আমরা বিদ্যালয়ে সঠিক সময় পৌঁছাতে পারি না এবং বৃষ্টি হলে রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট গর্তে পড়ে স্কুলড্রেস পানি ও কাঁদায় নষ্ট হওয়ার কারণে বাসায় ফিরে যেতে হয়।

            নোয়াগাঁও গ্রামের প্রাইভেটকার চালক মাহবুব বলেন, রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকার কারণে অধিকাংশ সময়ই গাড়ির সকেট জাম্পার, বুশ ও বিয়ারিং ভেঙে যায়। এতে যাত্রীসহ দুর্ঘটনায় পতিত হতে হয় এবং গাড়ির ব্যয়ভার বেড়ে যায়।

            বরকোটা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রুহুল আমিন বলেন, এই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণ প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটির দ্রæত সংস্কার আবশ্যক।

            এ প্রসঙ্গে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছরধরে সংস্কার না হওয়ার কারণে রাস্তাটির এই বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *