
বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুটি আদেশে শুধু চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলার পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়।
এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে জুলাই মাসের এক দিনে সর্বোচ্চ।
দুর্যোগে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড়ধসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় আটকে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৩টি ছোট-বড় পাহাড়ধস হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার শতাধিক গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে।
অতি ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা