প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা দূর হলো সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে

              ষ্টাফ রিপোর্টার\ দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে নিয়োগ, শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলি, প্রেষণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন ঘটেছে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে। ৬ বছর আগে দেয়া হাইকোর্টের এসংক্রান্ত রায় গত বৃহস্পতিবার বাতিল করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

এর ফলে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ, শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলি বা প্রেষণের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

              রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আইনি জটিলতার কারণে সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো স্থানীয় আয়োজনে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া, বদলি করার যে ব্যাপার আছে, এই মামলার কারণে এতোদিন তা কার্যকর হচ্ছিল না। নানা রকম জটিলতা। আজকের রায়ের পর সেই জটিলতা নিরসন হবে। সরকার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারবে। একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

              তিনি বলেন, ‘সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্থান থাকবে ওপরে। আর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি স্কুল থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের স্থান থাকবে নিচে। এটাই আজ প্রতিষ্ঠিত হলো।’

              ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অধিগ্রহণ করে। ওই বছরের ৯ই জানুয়ারি রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে এক শিক্ষক মহাসমাবেশে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। পরে ১৯৭৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় (অধিগ্রহণ) আইনের ৬ ধারার ক্ষমতাবলে সরকার ওই বছরের ৯ই সেপ্টেম্বর ‘অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা’ শিরোনামে বিধিমালা প্রণয়ন করে।               বিধিমালাটির আলোকে অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ওই বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ‘জাতীয়করণ’ করা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিও ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়; কিন্তু জটিলতা তৈরি হয় এসব শিক্ষকের পেনশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের সুবিধা দেয়া দেয়া নিয়ে। বিধিমালার ২(গ) বিধিতে বলা আছে, ‘অধিগ্রহণ বা জাতীয়করণের’ তারিখের আগে এসব প্রাথমিকের শিক্ষকরা যতোদিন চাকরি করেছেন (কার্যকর চাকরিকাল), তার অর্ধেক সময় ধরে সে অনুযায়ী পেনশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল সুবিধা দেয়া হবে। তবে তা ৪ বছরের কম হলে ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

              ২০১৭ সালে ২(গ) ও ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কিছু শিক্ষক। ৯(১) বিধিতে বলা আছ, ‘বিধি ৪-এর অধীন কোনো শিক্ষকের নিয়োগ প্রদানের তারিখ থেকে কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে শিক্ষক পদে তাঁর জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে এবং ওই তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগবিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে ওই শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারিত হবে।’

              প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ৯(১) বিধির ‘এবং ওই তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগবিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে ওই শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারিত হবে’ অংশটি কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। চূড়ান্ত শুনানির পর হাইকোর্ট ৯(১) বিধির এই অংশ অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৯ সালের ১১ই মার্চ রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে সরকার। ২০২২ সালের ২০শে নভেম্বর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে সরকারকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *