
দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা হলে তার পরিণতি কঠোর হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত না করা হলে এক ফ্যাসিবাদের জায়গায় আরেক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা থেকেই যাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা–২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তাঁর ভাষায়, একটি ফ্যাসিবাদের অবসানের পর আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হোক—এটি কেউ চায় না। এজন্য তিনি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরকারি দলকে সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার দুঃসাহস দেখালে এবার আর পালানোর সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার ও সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা একসময় নিপীড়নের শিকার ছিলেন, তারা যেন নিজেরা নিপীড়ক হয়ে না ওঠেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মেনে নেয় না। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা অন্য কোনো গোষ্ঠী দেশকে আবার সেই পথে নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, একটি মহল জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি না করে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও হল-কেন্দ্রিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবির প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।