৯টি পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের অসংখ্য খন্ড উদ্ধার দেবীদ্বারে লোমহর্ষক ফরিদা ইয়াসমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামী লাইলী জেলহাজতে

              নিজস্ব প্রতিনিধি॥ কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক বাড়ির মালিককে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।

              এদিকে, রোববার (৯ই আগস্ট) বিকেলে একটি ডোবা থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মাথা ও দুই পায়ের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে এদিন সকালে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দু’টি পলিথিন ব্যাগে দেহের আরো কিছু খন্ড উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা। দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

              মামলার আসামিরা হলেন- দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী লাইলী আক্তার, পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন একই গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল রানা, মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম। মামলার ১ নম্বর আসামি লাইলী আক্তারকে বিক্ষুব্ধ জনতা শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

              এর আগে ২০২১ সালের ১৪ই নভেম্বর লাইলীর সঙ্গে নিজের বাবাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় ৫ বছরের শিশু ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে একটি খালে পুঁতে রাখে তার বাবা আমির হোসেন ও পরকীয়া প্রেমিকা লাইলী আক্তার। ওই ঘটনার ৭ দিন পর একটি খাল থেকে ফাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় প্রায় সাড়ে ৪ বছর কারাভোগ শেষে কয়েক মাস আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পায় লাইলী আক্তারসহ সব আসামি। ফাহিমার হত্যার বিচার এখনো চলমান রয়েছে।

              দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রোববার সকালে নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের আরো কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেলে মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়। ওসি জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

              দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া (সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে কয়েক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পায়। এরপর বিভিন্ন জায়গা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় ১২ দিন আগে এই বাসায় ভাড়ায় ওঠেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

              উল্লেখ্য, ফরিদা বেগম স্বামী ও সন্তানদের থেকে আলাদা ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাঁদের ২ মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। শনিবার সকালে ফরিদা বেগমকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ডায়াবেটিসের কারণে সকালে হাঁটতে বের হতেন বলে জানান স্বজনরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে মাইকিং করা হয়। পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পায়। সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে প্যাকেটের ভেতর খন্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯টি পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খন্ড উদ্ধার করে। তবে মরদেহের মাথা ও ২ পা পাওয়া যায়নি।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বদেশ রেস্তোরাঁ এন্ড পাটি সেন্টার