চট্টগ্রামে ভোরের কুয়াশা ও শিশিরে শীতের আগমনি বার্তা

চট্টগ্রাম ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে ধীরে ধীরে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। ভোরের হালকা কুয়াশা, শীতল বাতাস আর ঘাস ও ধান পাতায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের। শরৎকাল শেষ না হলেও প্রকৃতিতে শীতের আগমনি বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মাঠের ঘাস ও ধান পাতায় জমে আছে শিশিরবিন্দু। হালকা কুয়াশায় দূরের গাছপালা ও সড়ক কিছুটা ঝাপসা হয়ে ওঠে। পরে সূর্যের মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়, ফুটে ওঠে শিশিরভেজা প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল হক জানান, কয়েক দিন ধরে রাতের শেষ ভাগে কুয়াশার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে বাতাসে হালকা শীত অনুভূত হয়। এতে মনে হচ্ছে, ধীরে ধীরে শীত এগিয়ে আসছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক শামসুল আলম। তাঁর ভাষ্য, এখনো পুরোপুরি শীত নামেনি। তবে ভোরের কুয়াশা ও রাতের শীতল বাতাসে শীতের আগমনের লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অফিসার সুমন সাহা বলেন, ভোরের হালকা কুয়াশা ও শীতল বাতাসে প্রকৃতিতে শীতের আবহ তৈরি হচ্ছে। দিনের প্রথম ভাগে এই পরিবর্তন বেশি অনুভূত হচ্ছে। পাহাড় ও নদীর নিকটবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় শীতের আগমনি লক্ষণ তুলনামূলক আগেই দেখা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শীতের মৃদু আমেজ অনুভূত হলেও তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে শীতের তীব্রতা বাড়লে শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও বাড়বে।

ভোরের কুয়াশা, রাতের শীতল বাতাস আর শিশিরভেজা সকাল—সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের প্রকৃতিতে এখন ঋতু পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *