
দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পর্যটন মৌসুম। এবার প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পর্যটন মৌসুম চলবে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এ দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।
বাড়ছে পর্যটক যাওয়ার সংখ্যা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ জন বেশি পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। আগে দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যাওয়ার সীমা নির্ধারিত ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পর্যটক যাওয়ার অনুমোদিত সংখ্যা বেড়েছে ৭৫ শতাংশ।
এবার পর্যটন মৌসুমের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসেও পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
যেসব ঘাট থেকে চলবে জাহাজ
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর সেন্ট মার্টিন রুটে নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।
পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬’-এর বিধি ২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষার বিধিনিষেধ বহাল
পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও দ্বীপটির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।
এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে সৈকতে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি আয়োজন এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল, পাখিসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো এবং পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। পর্যটকদের পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বয়ের উদ্যোগ
সেন্ট মার্টিন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিবেশদূষণ দ্বীপটির নাজুক প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ। এ কারণে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পর্যটকদের ভ্রমণের আগে অনুমোদিত জাহাজ, টিকিট ও যাতায়াতসংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।