👁 209 Views

পুলিশ পরিচয়ে লালমাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি

            নিজস্ব প্রতিনিধি॥ কুমিল্লার লালমাইয়ে ২ সহোদর প্রবাসীর বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা প্রবাসীর ভগ্নীপতিকে বেঁধে ও পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের আলমিরাতে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১টি এন্ড্রয়েড মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।

            গত ২৪শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের নুরপুরের সীমান্তবর্তী আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে ইতালি প্রবাসী আজিজুল হক খোকন ও ফ্রান্স প্রবাসী জহিরুল হক রিপনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। প্রবাসীদের ভগ্নীপতি কুমিল্লার রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘‘আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি বাড়িতে একা থাকেন। সে কারণে আমি পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকি। ওইদিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে কিছু লোক বাইরে থেকে দরজা ধাক্কা দিতে থাকে। কে জানতে চাইলে বাহিরে থেকে বলা হয়, ‘আমরা পুলিশ। ঘরে আসামি আছে। দরজা খুলুন।’ আমরা তখন বলি কোনো আসামি ঘরে নেই। আপনারা দিনে আসুন। কিছুক্ষণ পর তারা পাকা ভবনটির কলাপসিবল গেটের তালা ও ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।’’

            তিনি আরো বলেন, ‘৪/৫ জন ডাকাত কালো মুখোশ পরে ঘরে প্রবেশ করে। শুধু চোখ দেখা গেছে। তাদের হাতে ছেনি, রড, ছুরি ও জয়েন্ট পাইপ ছিল। ঘরে প্রবেশ করেই আমার বাম হাতে ছুরিকাঘাত করে এবং পুরনো কাপড় দিয়ে আমাকে বেঁধে সামনের রুমে ফেলে রাখে। তারা ভেতরের ঘরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিনটি স্টিলের আলমিরা ও দু’টি কাঠের আলমিরা ভাঙে এবং আলমিরার ভেতরে থাকা ১২ ভরি স্বর্ণ, নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আমার শাশুড়ির একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।’

            প্রবাসীর বোন হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ‘ঘটনার সময় ঘরে আমি, আমার বৃদ্ধা মা, আমার স্বামী ও আমার মেয়েসহ তিনজন শিশু ছিলাম। ডাকাতরা ঘরের বাইর থেকে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলেছিল। তারা যখন সামনের কলাপসিবল গেইটের তালা ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করতে থাকে তখন আমি পেছনের দরজা খুলে রান্নাঘরে গিয়ে লুকিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে ডাকাতির ঘটনা জানাই। আমার কাছ থেকে জেনে আমার ভগ্নিপতি অহিদুর রহমান মাছুম পুলিশকে জানালে আর্মি ও পুলিশ বাড়িতে আসে। আর্মি আসার কয়েক মিনিট আগেই ডাকাতরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।’

            লালমাই থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দু’টি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু এর আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *