চাহিদার সিকি ভাগও মিলছে না গ্যাস

            ষ্টাফ রিপোর্টার\ গ্যাসসংকটে ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে সাংসারিক খরচও। গত কয়েকদিনের তীব্র গ্যাসসংকটে আবাসিকে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না বাখরাবাদ গ্যাসের কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রাহকরা। বিকল্প হিসেবে মানুষ এখন রাইস কুকার, বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। স্বল্প আয়ের মানুষ মাটির চুলাও কিনছেন।

            আবাসিকের গ্রাহকরা গ্যাসের জন্য মাসিক বিল দেয়ার পর বিকল্প এ ব্যবস্থায় যেতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছেন। আর বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে গিয়ে যন্ত্রপাতি ও চুলা ক্রয়ের খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও লাকড়ির খরচ জোগাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটে বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের দাম বেড়েছে। অটোগ্যাসের সংকট ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংকটে চালকরা তাদের চাহিদার অর্ধেকও গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে অটোগ্যাসের ব্যবহারকারী অনেকেই ব্যয়বহুল জ্বালানি অকটেন-পেট্রোলে চলে যাচ্ছেন। ফলে জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে এলপিজির তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে স্টেশন মালিক এবং প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

            এ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ বলেন, গত ২ দিনে এলপিজি সংকটের কারণে অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। অনেক স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ নেই। অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর মধ্যে অর্ধেকই গ্যাস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় গাড়ি মালিকরা বাধ্য হয়ে অটোগ্যাস ও সিএনজি গ্যাস থেকে পেট্রোল ও অকটেনের মতো ব্যয়বহুল জ্বালানিতে চলে যাচ্ছেন। স্টেশনগুলোতে সিএনজি গ্যাসের সরবরাহও খুব কম। গ্যাসসংকটের কারণে সিএনজি গ্যাস স্টেশনের মালিকরা এখন তাদের ব্যবসা নিয়ে বেশ চিন্তিত। শফিকুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আমার বাসায় গ্যাসের সংকট বহুদিনের। এবার শীতে সংকট এতো বেশি যে ঘরের চুলা জ্বালাতেই পারছি না। ২ দিন আগে একটি রাইস কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি। এতে বাড়তি খরচও হয়েছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক বিলও এ মাস থেকে বাড়বে। অথচ প্রতি মাসেই গ্যাসের জন্য বিল দিচ্ছি।’

            বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২ সপ্তাহে তাদের রাইস কুকার ও বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বেড়ে গেছে। মানুষ এসব কিনতে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানান, ঘরের রান্নার কাজ বৈদ্যুতিক চুলা দিয়ে করলে মাস শেষে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মতো বৈদ্যুতিক বিল আসতে পারে। বাসাবাড়ির গ্যাসসংকটে অনেকেই এখন হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাচ্ছেন। আবার এলপি সিলিন্ডারের সংকটে অনেক রেস্টুরেন্টেও খাবার তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক খাবারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

            রহিম শেখ নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘বাজারে সিলিন্ডার নেই। যা পাওয়া যাচ্ছে দাম বেশি। এজন্য খাবারের দামও বাড়ানো হয়েছে।’

            গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস লিঃ লাকসাম শাখার ডেপুটি ম্যানেজার মারুপ হাসানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *