আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেই অগ্রাধিকার, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।”

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এবং আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

স্বাধীনতা পুরস্কারকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান উল্লেখ করে তিনি জানান, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন, যাতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো যায়। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও মরণোত্তর এই সম্মাননা পেয়েছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

নারীর নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।” এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন খাতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দলীয় ইশতেহার ও ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকার জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভর্তুকি দিয়ে হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি অমিতব্যয়িতা পরিহার এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সংযমী হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *