
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির Syed Abdullah Mohammad Taher বলেছেন, ব্যাংকটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় এস আলাম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পুনরায় স্থান দেওয়া হলে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে অনাস্থা তৈরি হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছিল এবং গ্রাহকদের আস্থাও বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের কারণ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের নেতৃত্বে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছিল। তাই তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার পেছনের কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্বহালের বিষয়টিও বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো প্রসঙ্গে তাহের অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন উপায়ে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং এতে প্রকৃত শেয়ারধারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং বৈধ শেয়ারধারীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে, তাঁকে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
তাহেরের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রাহকেরা নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা আমানত রেখেছিলেন, যা ব্যাংকটির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো সেই আস্থাকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে এবং তা ব্যাংকিং খাতে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্ভূত উদ্বেগ দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে আমানতকারীদের আস্থা অটুট থাকে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে।