দেবিদ্বারে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছে শীত বস্ত্র ও শিল্প মেলা

            নিজস্ব প্রতিনিধি\ কুমিল্লার দেবিদ্বারে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে শীত বস্ত্র ও শিল্প পণ্য মেলা। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের নাগের ডগায় এ মেলা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কয়েকশ ব্যবসায়ী। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এ মেলার আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

            সরেজমিনে গত রোববার মেলার স্থানে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এবিএম গোলাম মোস্তফা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে “দুই মাসব্যাপী শীত বস্ত্র ও শিল্প পণ্য বাজার” নামে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের অনুসারী একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গত মাসে এ মেলাটি চালু করে। মেলায় কাপড় ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসহ বিভিন্ন রকমের দোকান-পাট রয়েছে। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের নাগের ডগায় এবং সরকারী মালিকানাধীন একটি মার্কেটে অনুমতি বিহীন অবৈধভাবে এ মেলা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

            এতে স্থানীয় কয়েকশ ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। মেলার আয়োজকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলছে না। তবে মেলাটি বন্ধ করতে গত রোববার আল আমিন নামের স্থানীয় এক ব্যবস্থায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

            নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক মাস পূর্বে এবিএম গোলাম মোস্তফা স্টেডিয়াম এই মেলাটি চালুর জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পূন্ন করেছিলো আয়োজকরা। কিন্তু অনুমতি না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন তা বন্ধ করে দেন। এরপর সংসদ নির্বাচনের ফাঁকে সু-কৌশলে নাম পরিবর্তন করে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে মেলাটি চালু করেন তারা। তিনি আরো বলেন, মেলাটি বন্ধ না হলে স্থানীয় কয়েকশ ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুুখীণ হবেন।

            মেলার আয়োজক পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ সরকার বলেন, জেলা পরিষদ মার্কেটে আমাদের দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। মার্কেটটি উদ্বোধন হলেও দীর্ঘদিন ধরে চালু করা সম্ভব হচ্ছিলনা। তাই মার্কেটের কিছু দোকান চালু করলেও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নাম দেয়া হয়েছে “দুই মাসব্যাপী শীত বস্ত্র ও শিল্প পণ্য বাজার”।

            থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নয়ন মিয়া বলেন. মার্কেটটি জেলা পরিষদের। এ মেলার অনুমতি আছে কিনা আমি বলতে পারবোনা, তবে উপজেলা প্রশাসন বলতে পারবে।

            এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিগার সুলতানা বলেন, মেলার অনুমোদন আছে কিনা আমি জানিনা, মেলার অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক। আমি বিষয়টি জেনে আপনাদের জানাবো। এছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *