রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দ্বীন (ধর্ম) প্রচারে নাঙ্গলকোটে যাঁরা স্মরণীয়

দ্বীন (ধর্ম) প্রচারে নাঙ্গলকোটে যাঁরা স্মরণীয়
৯৭ Views

\ পীরজাদা মাওলানা শাহ্ মোঃ হাছান উদ্দীন \

            দ্বীন (ধর্ম) শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ: দ্বীন শব্দটি আরবি শব্দ দাল আলিফ নূন মূলধাত;ু এটি একবচন, বহুবচনে (আদইয়ান) কোরআন ও হাদীসে দ্বীন শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো ধর্ম (জবষরমরড়হ)। অন্যান্ন অর্থগুলো হলো যথাμমে: আনুগত্য (ড়নবফরবহপব), বিচার (ঔঁফমসবহঃ), প্রথা (ঈঁংঃড়স), প্রতিদান বা প্রতিফল

বিজয়, ক্ষমতা ইত্যাদি।

            এখানে আমরা দ্বীন বলতে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আলোকপাত করব, ইনশাল্লাহ।

দ্বীন শব্দের পারিভষিক বিশ্লেষণ: দ্বীন শব্দের পারিভাষিক সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। প্রত্যেকেই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা অনুযায়ী ধর্মকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, এবং তারা যেটিকে ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মনে করেন সেটির ভিত্তিতেই সংজ্ঞা দিয়েছেন। নিম্নে কতিপয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো: ১। লিসানুল আরব গ্রন্থকারের মতে দ্বীন হলো: আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়ত যা ওহির মাধ্যমে প্রাপ্ত। সূত্র দেখুন: লিসান-আল-আরব (২/১৪৬৭), ২। আল মু’জামুল অসিত প্রণেতার মতে দ্বীন হলোঃ হৃদয়ে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা। ৩। আল জুরযাানির মতে দ্বীন হলো: দ্বীন একটি ঐশ্বরিক বিধান, যা বুদ্ধিমান মানুষদেরকে রাসুল সাল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যা আছে তা গ্রহণ করার দিকে আহŸান করে। (সূত্রঃ আল জুরযানি), ৪। আব্দুল্লাহ ইবনে বায এর মতে দ্বীন হলো: মানুষ যা কিছুকে ধর্ম হিসেবে মানে এবং যার মাধ্যমে তারা ইবাদত করে, সব কিছুকেই দ্বীন বলা হয়। ৫। আল্লামা আবুল আ’লা মওদুদি (রহঃ) মতে: দ্বীন কেবল একটি ধর্ম নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিক জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের বিশ্বাস, আচরণ ও সমাজ জীবনের সবদিক নিয়ন্ত্রণ করে। তথ্যসূত্রঃ (আল কুরআনে চার পরিভাষা)

আল কোরআনে দ্বীন শব্দের ব্যবহার

১. আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম। সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৯, ২. যে ইসলাম ব্যতিত অন্য কোনো ধর্ম কামনা করে তা কখনো কবুল করা হবেনা (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৮৫), ৩. এবং তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকবে যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভ‚ত হয় এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। (সূরা আনফাল, আয়াত-৩৯), ৪. কখনো বিভ্রান্ত হয়োনা, বরং তোমরা দান প্রতিদানকে মিথ্যা মনে কর। (সূরা ইনফিতার, আয়াত – ৯), ৫. উরা কর্মফল দিবসে উহাতে প্রবেশ করিবে। (সূরা ইনফিতার, আয়াত-১৫)

            দ্বীন প্রচারে যাদের অবদান নাঙ্গলকোটে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাঁদের অবদান নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ

 আলহাজ্ব শাহ সুফী মোঃ আব্দুল গণী পীর সাহের (রহ:), তিলিপ দরবার শরীফ

            জন্মঃ ১৯০১ সালে মৌকরা ইউনিয়নের তিলিপ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতা হলেন সুফী মুন্সি আরব আলী (রহঃ)

            শিক্ষা জীবন: শিক্ষা জীবনে তিনি লাকসাম পশ্চিমগাঁও ফয়েজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় বর্তমান গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা হতে জমাতে নহম পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।

মা’রেফতের দীক্ষা ও খেলাফত লাভ: তিনি তদীয় পীর- ছারছিনার আল্লামা শাহ্ সুফী নেছার উদ্দীন আহমাদ (রহঃ) এর খেদমতে প্রায় ১৪ বছর সোহবত নেয়ার পর তাঁকে মারেফতের দীক্ষায় কামিল মুকাম্মাল করে দ্বীন

প্রচারের জন্য খেলাফত প্রদান করেন।

            ১৯৪৯ সালে ছারছিনার আল্লামা নেছার আহমাদ পীর সাহেব প্রায় ১৪০০ হজ্ব যাত্রী নিয়া মক্কা শরীফে হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন, সে বছর তিনি নাঙ্গলকোটে তাশরিফ আনেন। সে সময় মরহুম হাছানুজ্জামান খান সাহেব ও হাজী আফসার উদ্দিনদ্বয়সহ অনেকে দাদা হুজুরকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হুজুর আপনি তো চলে যাচ্ছেন আমারে কে তালিম দিবে? তিনি বললেন বাবা

তিলিপের ছুফি আব্দুল গনী তালিম দিবে তোমরা সুফী আব্দুল গনী থেকে তালিম তালকিন গ্রহণ করিবে।

            “আমার হাত সূফী আব্দুল গণীর হাত, আমার জবান সুফী আব্দুল গণীর জবান, আমার কাছে যা পাইবা সুফী আব্দুল গনীর কাছে তা পাইবা আমি তাকে খেলাফত দিলাম”। এরপর তিনি খেলাফত গ্রহণ করে অবিভক্ত বাংলা-ভারতে দ্বীন প্রচারে আনজাম দিতে থাকেন।

            ধর্মীয় সংস্কার: তিনি খেলাফত গ্রহন করার পর ভারতের আগরতলা ও দক্ষিন পূর্ব বাংলা তথা বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়িসহ সারাদেশে দ্বীন প্রচার করতে থাকেন।

            তৎকালিন সময়ে মানুষ নামের আগে শ্রী, মাথায় টিক্কি, পরনে হিন্দুয়ানা ধুতি পরতো, আর বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা, ডাবা ইত্যাদি পান করত, তিনি এগুলো সংস্কার করে নামের আগে শ্রী এর পরিবর্তে মোহাম্মদ, মাথার টিক্কির পরিবর্তে টুপি, পরনে ধুতির পরিবর্তে লুঙ্গি ইসলামী প্রথা চালু করেন। পথহারা, দিকভোলা, মানুষদেরকে আল্লাহমুখি নামাজ মুখি করেন এবং তাগুতের গন্ডি থেকে বের করে হিন্দু থেকে মুসলমান করেন।

            ঘরে ঘরে ঢুকে ডাবা, হুক্কা, কলকি ভেঙ্গে পেলেন, এই সব ইসলামি সংস্কারের জন্য উনাকে মুজাদ্দেদে জামান বলা যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানমালা: তিলিপ ছুফিয়া নূরীনা আলিম মাদ্রাসা, স্থাপিত-১৯৩০ খ্রি., তিলিপ নেছারিয়া জামে মসজিদ, তিলিপ মুঈনীয়া ইয়াতিমখানা, তিলিপ দ্বীনিয়া মাদ্রাসা, ডুমরুয়া খানকা শরীফ, নোয়াখালি । তাইন্দং মাদ্রাসা ও খানকা শরীফ, খাগড়াছড়ি,

বেলছড়ি খানকা শরীফ ,খাগড়াছড়ি, বাতুপাড়া খানকা শরীফ, নাঙ্গলকোট, বাৎসরিক ২টি মাহফিল, মাসিক তা’লিমি জলসা, শিংহপাড়া গনীয়া হেফজখানা, খাগড়াছড়ি।

            গণীয়া নামকরণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাঃ

সূফী আব্দুল গণি সড়ক (ফতেপুর থেকে গোমকোট বাজার), সারা দেশে গণিয়া নামকরনে বিভিন্ন দোকানপাট, পরিবহন, হোটেল- রেস্তোরা, শিক্ষা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

            ইন্তেকাল: দ্বীন প্রচারের এই মহান সাধক ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে, অসংখ্য ভক্ত-মুরিদ এবং অনুরক্ত রেখে ২০০১ সালের ৯ই জানুয়ারি মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে মাওলার যিম্মায় চলে যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

            তাঁর যানাজায় লক্ষাধিক মানুষ হয়েছিল। আর যানাজার নামাজে ইমামতি করেন তাঁর সুযোগ্য-বড় সাহেবজাদা অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা শাহ সূফী আবু নছর মোঃ মুঈনুদ্দীন পীর ছাহেব।

আলহাজ্ব শাহসূফী মোঃ অলিউল্লাহ পীর সাহেব (রহ), মৌকারা দরবার শরীফ

            জন্মঃ ১৯০৫ খ্রি. মৌকরা ইউনিয়নের মৌকরা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হলেন- সুফী আব্দুল হামীদ (রহ.)

শিক্ষাজীবন: শিক্ষা জীবনে তিনি লাকসাম গাজীমুড়া হতে ফাযিল পাস করার পর ছারছিনা তার পীরের সুহবতে চলে যান।

            মারেফতের দীক্ষা ও খেলাফত লাভ: ফাযিল পাস করার পর তিনি স্বীয় পীর মুর্শিদ আল্লামা নেছার উদ্দীন (রহঃ) এর খেদমতে চলে যান পীর সাহেব হুজুর তাঁকে কামিল শ্রেণীতে ভর্তি না করে তার সুহাবতে রেখে মারেফতের দীক্ষা লাভ করতে উৎসাহিত করেন এবং তাঁকে এক বছর মাদ্রাসা ও দরবারে থাকতে বলেন, মৌকরার পীর সাহেব হুজুরের বাবা মরহুম আব্দুল হামীদ (রঃ) বলেন, এক বছর কেন আজীবন আপনার গোলাম হয়ে থাকবে এতে আমার কোন আপত্তি নেই, এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘকাল হুজুরের সোহবতে থেকে এলমে মারেফতে কামিল মুকাম¥াল করে ১৯৪৫ খ্রি: খেলাফত প্রদান করে এলাকায় পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি স্বীয় পীরের দোয়া ও খেলাফত নিয়ে নিজ এলাকা ও সারাদেশে দ্বীন ইসলামের খেদমত শুরু করেন।

* ইসলামী আদর্শ বিস্তার *

বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী আদর্শ বিস্তারে নিরলস নিঃস্বার্থ খেদমত করে ইতিহাসের পাতায় যারা চির অ¤øান চির ভাস্বর হয়ে আছেন তাঁদের মধ্যে পীর ওয়ালি উল্লাহ (রহঃ) অন্যতম। উত্তরপূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব বাংলার মানব সমাজে হেদায়েতের আলো এবং মারেফতের তেজদীপ্ত নূরের বিকিরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে পীর ওয়ালী উল্লাহ (রহঃ) এর অবদান সর্বজন স্বীকৃত।

* প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানমালা*

            দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা, স্থাপিত ১৯৪৭ খ্রিঃ, দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া ওয়ালিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা, দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, দারুচ্ছুন্নাত ইয়াতিমখানা, খানকায়ে নেছারিয়া ওয়ালিয়া, দারুচ্ছুন্নাত কম্পিউটার ল্যাব,দাতব্য চিকিৎসালয় ইত্যাদি।

            বাৎসরিক দুইদিনব্যাপী মাহফিল ও মাসিক তালীমি জলসা।

ইন্তেকাল: ইসলামের এ মহান সাধক ১লা মার্চ ২০০৬ খ্রি. ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

            মাওলানা মোঃ কলিমুল্লাহ (রহঃ) প্রকাশ নারান্দিয়ার হুজুর

            নামঃ- মাওলানা মোঃ কলিমুল্লাহ (রহঃ)

জন্মঃ ১৯১৪ খ্রিঃ তিনি রায়কোট ইউনিয়নের ঝাটিয়াপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

            শিক্ষাঃ তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা হতে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। শাইখুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহঃ) এর কাছ থেকে হাদীসের দরস গ্রহণ করেন।

            কর্ম জীবনঃ কর্ম জীবনে তিনি ১৯৪৫-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত নাঙ্গলকোট আফসারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এরপর মাদ্রাসাটি সরকারি হয়ে গেলে পরে-মন্তলি মাদ্রাসা ও ঢালুয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় পর্যায়μমে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি হুসাইন আাহমদ মাদানী (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন।

            ১৯৯০ সালে তাঁর ছেলে হাফেজ মাওলানা এনায়েত উল্লাহ সাহেব নারান্দিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কখনো জীবনে আসরের নামাজ কাযা করেন নি।

            ইন্তেকাল: ১৯৭৭ সালের ১২ই ফেব্রæয়ারি এ মহান আলেম রোজ শনিবার ইন্তেকাল করেন।

            হাজী আফসার মো: উদ্দীন আহমাদ জমিদার (রহঃ)

            জন্মঃ বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মরহুম হাজী মো. আফসার উদ্দীন আহমাদ জমিদার সাহেব যিনি হরিপুর হাজী বাড়ীতে ১০/০১/১৯০১ খ্রি. জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ফুরফুরা দরবার শরীফের খলিফা ছাড়াও তৎকালিন দক্ষিণ কুমিল্লার প্রতাপশালী ব্যবসায়ী ও জমিদার ছিলেন।

            প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ঃ তিনি নিজ জমিতে নিজ নামে ১৯৪২ খ্রি. ‘নাঙ্গলকোট আফসারুল উলুম কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

            ইন্তেকালঃ ২০/০৮/১৯৮২ খ্রি. তিনি ইন্তেকাল করেন। মাদ্রাসার পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

            মাওলানা মোঃ এনায়েত উল্লাহ (রহ.) প্রকাশ বদরপুরের হুজুর

নামঃ মাওলানা মোঃ এনায়েত উল্লাহ (রহ.) প্রকাশ বদরপুরের হুজুর ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহি আলেম পরিবারে ১৯২০ শতকের শুরুর দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মৌলভী মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ যিনি ঢালুয়া মাদ্রাসা ১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।

            শিক্ষা: তিনি সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা হতে প্রথম শ্রেণীতে কামিল ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও হাদিস শাস্ত্রের পÐিত।

            কর্মজীবনঃ কর্ম জীবনে তিনি ঢালুয়া রহমতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন এবং আমৃত্যু এ পদে বহাল ছিলেন।

            ‘বড় হুজুর’ নামে পরিচিত মরহুম এনায়েতুল্লাহ রহঃ ছিলেন আলেমে দ্বীন ও

বুজুর্গ ব্যাক্তিত্ব।

            ইন্তেকাল: ৪ নভেম্বর ১৯৯৮ খ্রি. এ ধর্মীয় সাধক আমাদের ছেড়ে পরপারে গমন করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

            মরহুম মাওলানা মোঃ মফিজুর রহমান

জন্ম: ১৭ই এপ্রিল ১৯৫২ ইং. আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মÐয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

            শিক্ষা:- তিনি কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রী অর্জন করেন।

            কর্ম জীবন: কর্ম জীবনে তিনি ভোলাইন বাজার আলিম মাদ্রাসায় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ভালো বক্তা ও আলোচক ছিলেন।

            রাজনৈতিক জীবন: তিনি রাজনৈতিক জীবনে একামতে দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে ছাত্র সংঘের তৎকালিন মহকুমার (জেলা) সভাপতি হিসেবে সুচনা হয়। এরপর তিনি ১৯৮০-২০০৪ সাল পর্যন্ত জামাতে ইসলামীর লাঙ্গলকোট উপজেলার আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জেলা সূরা কর্ম

পরিষ সদস্য ছিলেন ২০০৭ সাল পর্যন্ত।

প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান: আল-ফারুক একাডেমি, নাঙ্গলকোট

            ইন্তেকাল: ৬ই ফেব্রæয়ারি২০০৮ ইং তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

            এডভোকেট এ.জে.এম সালেহ উদ্দীন খন্দকার

            জন্ম: ৩১/১২/১৯৫২ খ্রি. বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের শুভপুর খন্দকার বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন।

            শিক্ষাঃ তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় বিএ-এল.এল.বি ডিগ্রী অর্জন করেন।

            পেশা: আইনজীবী ১৯৮১ সাল থেকে কুমিল্লা জর্জ কোটর্।

            রাজনীতিতে পদার্পণ: তিনি একামতে দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে ১৯৮৫ ইং রাজনীতিতে পদার্পণ করেন এবং ১৯৮৫ইং থেকে একটানা ১৫ বছর নাঙ্গলকোট উপজেলার জামাতে ইসলামীর সেμেটারীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ ইং জাতীয় নির্বাচনে তিনি একামতে দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে জামাতে ইসলামীর পক্ষে নাঙ্গলকোট উপজেলায় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জামাতে ইসলামীর জেলা সূরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখক:- কলামিস্ট, সুবক্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও আশেকে রাসুল (সা:)।

কামিল হাদিস, ফাস্ট ক্লাস (মাস্টার্স), সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা।

শাহ সাহেব, ঐতিহ্যবাহি তিলিপ দরবার শরীফ, পরিচালকঃ তিলিপ দরবার শরীফ “গনীয়া-মুঈনীয়া” কমপ্লেক্স, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা। মোবাইল: ০১৭৫৬-৯৩৭১৬৯.

Share This